আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের গোপন নথি বা ‘এপস্টেইন ফাইলস’ ফাঁসের ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক ভূমিকম্প শুরু হয়েছে যুক্তরাজ্যে। এই বিতর্কের জেরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে, যা দেশটির ক্ষমতার ভারসাম্য আমূল বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংকটের মূলে ম্যান্ডেলসন নিয়োগ
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রবীণ লেবার নেতা পিটার ম্যান্ডেলসন। দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কিয়ার স্টারমার। সম্প্রতি প্রকাশিত মার্কিন নথিতে দেখা গেছে, ম্যান্ডেলসন মন্ত্রী থাকাকালীন এপস্টেইনকে গোপন সরকারি তথ্য পাচার করেছিলেন। এই ঘটনায় পুলিশ ম্যান্ডেলসনের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্টারমারের ওপর পদত্যাগের চাপ
যদিও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই, তবে ম্যান্ডেলসনের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়াকে তাঁর ‘নেতৃত্বের ব্যর্থতা’ হিসেবে দেখছেন অনেকে। প্রধানমন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ ও যোগাযোগ পরিচালক ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। এমনকি স্কটিশ লেবার নেতা আনাস সারওয়ারের মতো ঘনিষ্ঠ মিত্রও প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তবে ডাউনিং স্ট্রিট সাফ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী এখনই সরছেন না।
পাদপ্রদীপে শাবানা মাহমুদ: প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাবনা
কিয়ার স্টারমার যদি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, তবে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নাম। যদি তিনি দায়িত্ব পান, তবে তিনি হবেন যুক্তরাজ্যের ইতিহাসের প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী।
শাবানা মাহমুদের রাজনৈতিক প্রোফাইল:
-
জন্ম: ১৯৮০ সালে বার্মিংহামে। তাঁর পরিবার পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর থেকে যুক্তরাজ্যে আসে।
-
শিক্ষা: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লিংকনস কলেজ থেকে আইনে স্নাতক। পেশায় তিনি একজন দক্ষ ব্যারিস্টার।
-
সংসদীয় ক্যারিয়ার: ২০১০ সালে বার্মিংহাম লেডিউড থেকে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন। তিনি যুক্তরাজ্যের প্রথম সারির নারী মুসলিম এমপিদের একজন।
-
মন্ত্রিত্ব: ২০২৪ সালের জয়ের পর তিনি বিচারমন্ত্রী হন এবং ২০২৫ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
কেন আলোচনায় শাবানা মাহমুদ?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা এবং অভিবাসন ইস্যুতে দৃঢ় অবস্থানের কারণে লেবার পার্টির ডানপন্থী ও মধ্যপন্থী—উভয় অংশেই তিনি জনপ্রিয়। অভিবাসন ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো সফলভাবে সামলানোয় দলের ভেতর তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে: ১৯ মাসের প্রধানমন্ত্রিত্বে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন কিয়ার স্টারমার। এই সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে না পারলে ব্রিটেনের ডাউনিং স্ট্রিটে বড় ধরনের রদবদল এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।