৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

এবার সুরমা আবাসিক হোটেলে পতিতা ব্যবসার পাশাপাশি আব্বাস-খলিলের ইয়াবা ব্যবসার সর্গরাজ্য ?

admin
প্রকাশিত ১২ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, ২০২৩ ০১:২৩:০৫
এবার সুরমা আবাসিক হোটেলে পতিতা ব্যবসার পাশাপাশি আব্বাস-খলিলের ইয়াবা ব্যবসার সর্গরাজ্য ?

Manual8 Ad Code

এবার সুরমা আবাসিক হোটেলে পতিতা ব্যবসার পাশাপাশি আব্বাস-খলিলের ইয়াবা ব্যবসার সর্গরাজ্য ?

 

ক্রাইম প্রতিবেদক::- সিলেটে সুরমা মার্কেট যেন অবৈধ কাজের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। চেনা পরিবেশে এমন অচেনা নেতিবাচক রূপ দীর্ঘদিন পর এখন লোকসম্মুখে।প্রাচীন এ মার্কেট সিলেটে অনন্য এক স্থাপত্য ও সম্পদ।

সেই মার্কেটের মধ্যে রয়েছে নামে আবাসিক, হোটেল নিউ সুরমা। ভাগবাটোয়ার মাধ্যমে দেহ ব্যবসার নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত করা হয়েছে এ মার্কেটি। ব্যস্ততম এ মার্কেটটিতে এমন অপরাধে কার্যকলাপ চললেও,কখনো সামনে আসেন না নিউ সুরমার হোটেলের অপকর্মের আব্বাস ও খলিলসহ হোতারা।

সিলেটের বহুল আলোচিত সুরমা মার্কেটস্থ নিউ সুরমা আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন থেকে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চললেও কোনো এক অদৃশ্য শক্তিবলে প্রকাশ্যে বেড়েছে নারী-পুরুষের যাতায়াত।সময়ের সাথে রং বদলায় নিউ সুরমা হোটেল!বিকেলে পুলিশ অভিযান চালায়,রাতে পূনরায় চলে অসামাজিক কার্যকলাপ।স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে এমন অপরাধের ধারা পরিবর্তন করা জরুরী। কারণ গ্রেফতারকৃত খুব সহজইে আইন মোকাবেলা করে পুনরায় এ অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

Manual2 Ad Code

গ্রেফতারের পর নৈপথ্যে খলিল ও আব্বাস আলী নিজ পকেটের টাকা খরচ করে দেহজীবিদের মুক্ত করেন। এর বিনিময়ে অদৃশ্য এক বন্ধনে জড়িয়ে নেন দেহজীবিদের। দিনের পর দিন নামমাত্র অর্থে তাদের তুলে দেন খদ্দরের হাতে।

প্রভাবশালী হোটেল ব্যবসায়ীদের পুতুল হয়ে দেহজীবিরা বিকল্প পথ না পেয়ে এমন অনৈতিক অপরাধের সাথে জড়িয়ে রাখে নিজদের।বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় এ হোটেলের বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও যেনো কারো কোনো মাথা ব্যাথা নেই।

হোটেলের মালিক সিলেটের নামকরা এক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান।চেয়ারম্যানের হাত এতোটাই লম্বা,যার কিছুই করতে পারেনা মিডিয়া কিংবা অন্যকোনো সংস্থা।নিউ সুরমা আবাসিক হোটেলের ভেতরে নীরিহ মানুষকে ব্লাকমেইলিংসহ নানা কারণে সংবাদের শিরোনাম হওয়া নিউ সুরমা আবাসিক হোটেলের পরিচালকদের রুখবে কে?তবে মাঝেমধ্যে লোক দেখানো দুএকটি অভিযান চালিয়ে পতিতা-খদ্দেরদের আটক করা হলেও বড় অংকের টাকা পেয়ে আদালতের মাধ্যমে তাদের ছেড়ে দেয়ার ব্যবস্থা করে দেন অসাধু পুলিশ।

Manual6 Ad Code

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে,এই হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ সম্পাদনের জন্য আড়ালে রয়েছে প্রাবশালী মহলের গডফাদার। নাম প্রকাশে অনিচ্চুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান,সিলেট নগরে পতিতা ব্যবসা একাধিক হোটেল রয়েছে হোটেলগুলো যেন মিনি পতিতালয়।

সুরমা মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী না প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,স্কুল-কলেজসহ নানা বয়সের নারী-পুরুষ সুরমা আবাসিক হোটেলে উঠতে ও নামতে দেখা যায়। মার্কেটের অন্তত ১০ জন সাধারণ ব্যবসায়ীর সাথে আলাপ কালে।তারা সবাই জানান,এটা এখানকার নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।এই মার্কেটের ভেতরে বা বাইরে কোথাও মানসম্মান নিয়ে চলার উপায় নেই।

সাধারণ মানুষের মধ্যে যারাই প্রতিবাদ করেন,খলিল আব্বাসের দালালরা তাদের উপরই চড়াও হয়। ধরে নিয়ে নির্যাতন করে ছেড়ে দেয়।জানা গেছে,হোটেল নিউ সুরমা পরিচালনার সাথে যে কুখ্যাত খলিল ও আব্বাস আলী পরিচালনা করছেন। তাদের পেছনে আরও প্রভাবশালী চক্র আছে বলেও জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীরা।হোটেল নিউ সুরমা আবাসিক এখন অপরাধীদের আস্তানা হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

আলোচিত একটি হত্যা মামলার আসামি খলিল তার মাদক কেনাবেচা,ব্ল্যাকমেইল,পতিতা, জুয়াসহ সব কুকীর্তি হোটেল নিউ সুরমায় হচ্ছে। প্রায়ই পুলিশী অভিযানে গ্রেফতার হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকটি হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপসহ মাদক বিক্রির অভিযোগ গণমাধ্যমে উঠে আসলেও নেওয়া হচ্ছেনা কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা।সর্বশেষ হযরত শাহজালাল (রঃ)সহ ৩৬০ আউলিয়া স্মৃতি রক্ষা পরিষদের উদ্যোগে অসামাজিক কার্যকলাপ রোধে সিলেট পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদানের পাশাপাশি অভিযোগের অনুলিপি প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থায় প্রেরণ করা হয়।একজন আইনজীবী জানান পুলিশকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে এই পতিতা ব্যবসা চলছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, সুরমা মার্কেটে আবাসিক হোটেল নিউ সুরমায় রমরমা ফেনসিডিল, ইয়াবা ও দেহ ব্যবসার মিনি রাজ্য গড়ে তোলা হয়েছে।রীতিমতো ইয়াবা সেবন করার নিরাপদ স্থান নিউ সুরমা, মাঝে মধ্যে ফেনসিডিল ও ইয়াবার চালান গোপনে সুরমা মার্কেটের এই হোটেলে পৌছে যায় বলে সূত্রে জানা গেছে। এর আগে ৩ বস্তা ফেনসিডিলের খালি বোতল সুইপাররা নেওয়ার সময় স্থানীয়দের মাথা ঘুরে যায়। তাদের মতে এতো ফেনসিডিল এই ড্রেনে আসল কি করে? ধারণা করা হচ্ছে, ড্রেনের পার্শ্ববর্তী হোটেলে ধরনের মাদক বিক্রি করা হয়। যার দরুন যারা এখানে খুচরা খেতে আসে তারাই বোতল গুলো ড্রেনে ফেলে যায়। এই অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বললে ভালো মানুষের পিছনে শত্রু লেগে যায়। গণমাধ্যম কর্মীরা মাঝে মধ্যে সেখানে ড্রেনে ফেলা ফেনসিডিলের খালি বোতলের ছবি তুলতে গেলে বাধা-বিপত্তি দেওয়া হয়।

নগরীর আলোচিত নিউ সুরমা আবাসিক হোটেলে পাশেই কোতোয়ালি মডেল থানা ও বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির অবস্থান।পুলিশের চোখের সামনে এ সব অনৈতিক কর্মকাণ্ড চললেও পুলিশ ম্যানেজ থাকায় বিষয়টি না দেখার ভান করে চলে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন,আগে সিলেটের এই সুনামধন্য মার্কেটে প্রতিদিন অনেক ক্রেতাদের আনাগোনা ছিল আমাদের ব্যবসাও অনেক ভালো হতো।গত কয়েক বছর থেকে নিউ সুরমা আবাসিক হোটেলের অসামাজিক কার্যকলাপের জন্য দিন কে দিন মার্কেটে মানুষের আনাগুনা কমছে।লজ্জা সরমে অনেকে এই মার্কেট থেকে ব্যবসা ছেঁড়ে চলে গেছেন।জানা যায়,নিউ সুরমা হোটেলে খলিল ও আব্বাস ও ইজরত আলীর নিয়োগকারী দালাল মুজিবসহ কয়েকজন পথচারী দেখলে বলে উঠে আসেন মামা -ভালো মাল আছে লাগবে কি? এমন কু-রুচিপূর্ণ কথা শুনে অনেকে বিব্রত হয়।

Manual2 Ad Code

কেউ বা তাদের কথায় সাড়াও দেয়।ব্যবসায়ীদের অভিযোগ যাচাইয়ে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র। নিউ সুরমা হোটেলের দালাল মুজিব প্রতিবেদককে দেখে এগিয়ে গিয়ে বলেন আমাদের হোটেলে ভালো মাল আছে লাগবে কি? প্রতিবেদক যেতে না চাইলে তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বলেন দেখে যান ৬টি মাল আছে ভালো লাগবে।সম্প্রতি এই বিষয়ে বেশ কয়েকটি মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে থানা পুলিশ হোটেলে রেড দিয়ে সুরমা হোটের ম্যানেজার আব্বাসসহ রাগব বোয়াল রেখে চুনি পুটিকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করে।

অপরাধীরা জামিনে বেরিয়ে পুনরায় অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ আছে, পুলিশের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে সে জন্য অভিযানের আগে ম্যাসেজ দিয়ে রাগব বোয়ালদের সরিয়ে অভিযান দেয়া হয়।এমনটি মনে করেন সচেতন মহল।

প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব অপকর্ম চললেও প্রশাসন কেনো নীরব? এরকম প্রশ্নের জবাবে ম্যানেজার আব্বাস জানান, প্রশাসন আমাদের কী করবে, আমরাতো প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এসব ব্যবসা চালাচ্ছি। তাছাড়া একজন প্রভাবশালী চেয়ারম্যানও এখানকার একটি হোটেলের মালিক বলে তিনি জানান।

Manual5 Ad Code

এব্যাপারে জানতে কোতোয়ালি মডেল থানা নাম্বারে কল দেওয়া হলে পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত আসছে সিলেটের শীর্ষ পতিতা ব্যবসায়ী ও একটি হত্যা মামলার আসামি কে এই খলিল?…!