এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে আজ রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে।
🔹 ঘটনাস্থলে কী ঘটেছিল
নন-এমপিও শিক্ষকেরা আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। এ সময় পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এতে现场ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং অন্তত ৫০ জনের বেশি শিক্ষক আহত হন।
শিক্ষক প্রতিনিধিদের অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছিলেন। কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই পুলিশ তাঁদের ওপর চড়াও হয়।
🔹 শিক্ষকদের বক্তব্য
সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ সেলিম মিয়া বলেন,
“সকাল থেকে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলাম। হঠাৎ পুলিশ বিনা উসকানিতে লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ছুড়ে আমাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে আমি নিজেও আহত হয়েছি। অন্তত অর্ধশত শিক্ষক আহত হয়েছেন।”
তিনি পুলিশের এই আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং ঘোষণা দেন—
“শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে।”
🔹 পুলিশের বক্তব্য
শাহবাগ থানার পরিদর্শক (প্যাট্রল) বুলবুল আহমেদ বলেন,
“শিক্ষকেরা দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাও করতে গেলে আমরা তাঁদের প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ করি। কিন্তু সাধারণ শিক্ষকরা ব্যারিকেড ভেঙে সচিবালয়ে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধ্য হয়ে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।”
🔹 প্রেক্ষাপট
গত ১৮ দিন ধরে নন-এমপিও শিক্ষকরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
তাঁদের এক দফা দাবি—
“দেশের সব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত এমপিওভুক্ত করতে হবে।”
শিক্ষকেরা দাবি করেছেন, তাঁরা বিনা বেতনে দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান করছেন এবং মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
📍 এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, এবং পুলিশ বাড়তি নিরাপত্তা নিয়েছে।