১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

এলডিসি উত্তরণের পর বড় চ্যালেঞ্জে প্রক্রিয়াজাত কৃষি ও খাদ্যপণ্য শিল্প

admin
প্রকাশিত ১১ নভেম্বর, মঙ্গলবার, ২০২৫ ১৯:১১:০১
এলডিসি উত্তরণের পর বড় চ্যালেঞ্জে প্রক্রিয়াজাত কৃষি ও খাদ্যপণ্য শিল্প

Manual5 Ad Code

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর প্রক্রিয়াজাত কৃষি ও খাদ্যপণ্য শিল্প খাত আর নগদ প্রণোদনা ও আমদানি করা উপকরণের ওপর শুল্কছাড়সহ বিদ্যমান সুবিধা পাবে না। তখন বিদেশি কোম্পানিগুলো দেশের বাজারে প্রবেশ করলে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে। এখনই রপ্তানির বাধা দূর করে বৈশ্বিক বাজারে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।

Manual7 Ad Code

তাঁরা বলেছেন, এ খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিকল্প সহায়তা যেমন সুদের হার সমন্বয়, সুলভ অর্থায়ন ও প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রণোদনা চালু করা জরুরি।

আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে প্রাণ গ্রুপের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালা ‘কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প: জাতীয় উন্নয়নে সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’-এ এসব আলোচনা হয়। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

সিপিডির বিশ্লেষণ

ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের বাজার প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, যা ২০৩০ সালে প্রায় ৬ বিলিয়নে পৌঁছাবে। তবে রপ্তানি পণ্যের ৬০ শতাংশই মাত্র পাঁচটি দেশে যায়, এবং পাঁচ ধরনের পণ্যই মোট রপ্তানির অর্ধেক দখল করে আছে। এতে রপ্তানির গন্তব্য ও পণ্যে বৈচিত্র্য না থাকায় এলডিসি-উত্তর সময়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে এই খাত।

তিনি বলেন, “আমাদের পণ্যের প্রধান ক্রেতা এখনো প্রবাসী বাংলাদেশিদের ‘এথনিক মার্কেট’। উন্নত দেশের মূলধারার খাবারের মান অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিতে আমাদের আরও দক্ষ হতে হবে।”

Manual2 Ad Code

প্রাণ গ্রুপের দৃষ্টিভঙ্গি

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন, “আমরা অধিকাংশ কাঁচামাল স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করি এবং বর্তমানে ১৪৮টি দেশে পণ্য রপ্তানি করছি।”

তিনি আরও বলেন, “অতিরিক্ত সার ও কীটনাশকের কারণে অনেক ফসল অনিরাপদ হয়ে পড়ছে, যা প্রক্রিয়াজাত পণ্যের মান ক্ষুণ্ন করছে। দেশে গ্যাপ (Good Agricultural Practice) অনুসরণ করা হয় না, ফলে ক্ষতিকর পদার্থ মিশে যাচ্ছে। সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থায় দুর্বলতার কারণে অনেক খাদ্যপণ্য নষ্ট হচ্ছে।”

Manual3 Ad Code

কামরুজ্জামান জানান, দেশে একটি বিশ্বমানের খাদ্যমান পরীক্ষাগার (টেস্টিং ল্যাব) স্থাপন না হওয়ায় আন্তর্জাতিক মান যাচাই কঠিন হয়ে পড়ছে। এছাড়া খাদ্যপণ্যের ব্যবসা শুরু করতে প্রায় ৪২টি প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নিতে হয়, যার সঙ্গে অতিরিক্ত ফি ও নবায়ন খরচ যুক্ত হয়ে ব্যবসার পরিবেশকে জটিল করছে।

তিনি বলেন, “দেশীয় খাদ্যপণ্যের গুণমান এখন আন্তর্জাতিক মান অর্জন করেছে। গণমাধ্যম ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরলে দেশীয় ব্র্যান্ডের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।”

Manual8 Ad Code

গণমাধ্যমের ভূমিকা

সাংবাদিক রিয়াজ আহমদ বলেন, “গণমাধ্যম শুধু খবর প্রচার করে না, বরং সমাজে দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাতের ইতিবাচক গল্প, উদ্ভাবন ও বাজার সম্ভাবনা তুলে ধরলে জাতীয় অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।”

কর্মশালায় কৃষি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত খাত নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা অংশ নেন।