১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর উদ্যোগ নেবে সরকার: নতুন বাণিজ্যমন্ত্রী

admin
প্রকাশিত ১৮ ফেব্রুয়ারি, বুধবার, ২০২৬ ১৭:৩৪:০২
এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর উদ্যোগ নেবে সরকার: নতুন বাণিজ্যমন্ত্রী

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

Manual2 Ad Code

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আজ বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান। মন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই এ বিষয়ে কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এলডিসি উত্তরণ ও কৌশলগত পদক্ষেপ

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে আজ থেকেই দাপ্তরিক কাজ শুরু হয়েছে। এ লক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা হবে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রথম সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ

দেশের রপ্তানি খাতের বর্তমান স্থবিরতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের রপ্তানি আয় এখনো একটি নির্দিষ্ট খাতের ওপর (প্রায় ৮৫ শতাংশ) নির্ভরশীল। এই ঝুঁকি কমাতে পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহায়তা দেবে সরকার।

Manual5 Ad Code

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতিতে পরিবর্তনের ফলে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক অস্থিরতা নিয়ে তিনি বলেন, “দরিদ্র দেশ হিসেবে আমাদের ভুল করার সুযোগ খুবই সীমিত। নীতিগত ভুল বা দীর্ঘস্থায়ী বৈদেশিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা বাংলাদেশের নেই।” এই মন্থর পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

Manual4 Ad Code

রমজানের বাজার ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ

আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন:

Manual2 Ad Code

  • রমজান ও পরবর্তী সময়ের জন্য পর্যাপ্ত পণ্য মজুত রয়েছে।

  • পাইপলাইনে সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে, তাই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

  • সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আমি শুধু বক্তব্য দিতে চাই না, বরং কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চাই।”

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান

বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল পরিবেশের ওপর গুরুত্বারোপ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, গত ২-৩ বছর ধরে বিনিয়োগে যে স্থবিরতা চলছে, তা অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করেছে। প্রতি বছর ২০-২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি ও মুনাফার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

সবশেষে তিনি সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সরকারের কোনো ভুল হলে ধরিয়ে দেবেন। আমরা স্বচ্ছতার সাথে কাজ করতে চাই।”