নিজস্ব প্রতিবেদক | লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মাংসের ওজনে কম দেওয়া এবং অতিরিক্ত হাড়-চর্বি মেশানোর প্রতিবাদ করায় নুরুল ইসলাম (৩২) নামে এক ক্রেতাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে উপজেলার তোরাবগঞ্জ বাজারে প্রকাশ্যে এই হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী যুবক লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত: খুশির দিনে বিষাদ
আহত নুরুল ইসলাম ১ নম্বর চর কালকিনি ইউনিয়নের বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছোট ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য মাংস কিনতে তোরাবগঞ্জ বাজারের বাহার কসাইয়ের দোকানে গিয়েছিলেন তিনি। মাংস কাটার সময় অতিরিক্ত হাড় ও চর্বি মিশিয়ে ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি হাতেনাতে ধরে ফেলেন নুরুল। এর প্রতিবাদ করতেই কসাই বাহার, তাঁর ছেলে সাহেদ ও দোকানের কর্মচারীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।
যেভাবে চলল হামলা
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়:
-
বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে নুরুল ইসলামের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন সাহেদ ও তাঁর সহযোগীরা।
-
উপস্থিত লোকজনের সামনেই তাঁকে বেধড়ক পেটানো হয়।
-
মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত পেয়ে নুরুল ইসলাম জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
কসাই বাহারের ‘সিন্ডিকেট’ ও জনরোষ
তোরাবগঞ্জ বাজারের সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, কসাই বাহার দীর্ঘ দিন ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা: ১. ওজনে কারচুপি: সব সময় নির্ধারিত ওজনের চেয়ে কম মাংস দেওয়া। ২. অতিরিক্ত মূল্য: বাজার দরের চেয়ে বেশি টাকা আদায়। ৩. দুর্ব্যবহার: প্রতিবাদ করলেই ক্রেতাদের মারধর বা লাঞ্ছিত করা। ৪. পরিবেশ দূষণ: বাজারের মূল সড়কের ওপর গরু জবাই করে যানজট ও দুর্গন্ধ সৃষ্টি করা।
অভিযুক্ত ও প্রশাসনের বক্তব্য
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে অভিযুক্ত কসাই বাহার দাবি করেন, “খারাপ ব্যবহার করায় সামান্য হাতাহাতি হয়েছে।” তবে ছেলে সাহেদের লাঠির আঘাতে ক্রেতা গুরুতর আহত হওয়ার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যেতে পারেননি।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি: “আমরা কেবল বিচার চাই। একজন সাধারণ ক্রেতা কেন নিজের টাকায় মাংস কিনতে গিয়ে কসাইয়ের লাঠির শিকার হবেন? দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”