৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ওডিশায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে শীর্ষ মাওবাদী নেতা গণেশ উইকে নিহত

admin
প্রকাশিত ২৫ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার, ২০২৫ ২১:৩৭:৪৫
ওডিশায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে শীর্ষ মাওবাদী নেতা গণেশ উইকে নিহত

Manual5 Ad Code

ভুবনেশ্বর, ২৫ ডিসেম্বর:
ভারতের ওডিশা রাজ্যের কান্ধামাল জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মাওবাদীদের শীর্ষ নেতা গণেশ উইকে (৬৯) নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে চালানো এই অভিযানে গণেশ উইকেসহ মোট চারজন মাওবাদী নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ওডিশা পুলিশ। নিহত গণেশ উইকে মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটির (সিসি) সদস্য এবং ওডিশার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান ছিলেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি ওডিশায় পরিচালিত মাওবাদীবিরোধী অভিযানের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Manual5 Ad Code

ওডিশা পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল (এএনও) সঞ্জীব পান্ডা জানান, কান্ধামাল জেলার চাকাপাদা থানা এলাকার রাম্ভা বন রেঞ্জের কাছে এই এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গত দুই দিনে কান্ধামাল জেলায় মোট ছয়জন মাওবাদী নিহত হলেন।

Manual1 Ad Code

নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, গণেশ উইকেকে মাওবাদী সংগঠনের ‘মস্তিষ্ক’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তিনি ‘রূপা’, ‘রাজেশ তিওয়ারি’, ‘পাক্কা হনুমন্তু’সহ একাধিক ছদ্মনামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ১ কোটি ১০ লাখ রুপি।

তেলেঙ্গানার নালগোন্ডা জেলার বাসিন্দা গণেশ উইকে চার দশকের বেশি সময় ধরে মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটিতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

গণেশ উইকেকে ২০১৩ সালে ছত্তিশগড়ের কুখ্যাত ‘ঝিরম ঘাঁটি’ গণহত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ওই ঘটনায় শীর্ষ কংগ্রেস নেতাসহ মোট ৩২ জন নিহত হয়েছিলেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার রাতে কান্ধামালের বেলঘর থানা এলাকার গুম্মা জঙ্গলে প্রথম দফা সংঘর্ষে দুই মাওবাদী নিহত হন। পরে বৃহস্পতিবার সকালে চাকাপাদা এলাকায় ওডিশা পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি), সিআরপিএফ এবং বিএসএফের যৌথ বাহিনী দ্বিতীয় দফা অভিযান চালায়। আজকের অভিযানে দুই নারী ও দুই পুরুষসহ মোট চারজন মাওবাদী নিহত হন। তাঁদের পরনে ইউনিফর্ম ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এনকাউন্টারস্থল থেকে দুটি ইনসাস রাইফেল ও একটি পয়েন্ট থ্রি জিরো থ্রি রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই অভিযানকে ‘নকশালমুক্ত ভারত’ গড়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদী সন্ত্রাস নির্মূল করতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। গণেশ উইকের নিধন ওডিশাকে মাওবাদীমুক্ত করার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।”

Manual5 Ad Code

উল্লেখ্য, এই অভিযানের মাত্র দুই দিন আগে ওডিশার মালকানগিরি জেলায় ২২ জন মাওবাদী পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। শীর্ষ নেতৃত্বের এই পতনে পূর্ব ভারতের মাওবাদী সংগঠনের কাঠামো মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

Manual7 Ad Code