
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ওমরাহ শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘ভ্রমণ করা’ বা ‘জনবহুল স্থানে গমন’। ইসলামি পরিভাষায়, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধা অবস্থায় কাবা শরিফ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে সায়ি করাকে ওমরাহ বলা হয়।
নির্দিষ্ট স্থান (মিকাত) থেকে ইহরাম বাঁধার মাধ্যমে ওমরাহ শুরু হয়। এরপর কাবা ঘরকে সাতবার প্রদক্ষিণ, সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে সাতবার দৌড়ানো বা হাঁটা এবং শেষে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করা — এই তিনটি ধাপের মাধ্যমেই ওমরাহ সম্পন্ন হয়।
হজের মতো এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। জীবনে একবার ওমরাহ আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। হজের নির্দিষ্ট সময় ছাড়া বছরের যেকোনো সময়েই ওমরাহ করা যায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“ধারাবাহিকভাবে হজ ও ওমরাহ করো, কারণ এগুলো গুনাহ দূর করে যেমন কামারের আগুন লোহা পরিষ্কার করে।” (তিরমিজি ৮১০)
আরেক হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন,
“এক ওমরাহ থেকে পরবর্তী ওমরাহ পর্যন্ত সময়ের গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হয়।” (সহিহ মুসলিম ১৩৪৯)
এক দিরহাম খরচের সওয়াব ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় — এমনটিও বর্ণিত হয়েছে (তাবারানি ফিল আওসাত ৫৬৯০)।
হাজরে আসওয়াদকে চুমু দেওয়া বা ইসতেলাম করা এক গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। কিয়ামতের দিনে এই পাথর সাক্ষ্য দেবে তাদের পক্ষে যারা একে সঠিকভাবে ইসতেলাম করেছে।
সাফা-মারওয়া সায়ি করাকে নবীজি (সা.) ৭০ জন দাস মুক্ত করার সমতুল্য বলেছেন (ইবনে হিব্বান ১৮৮৭)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) তিনবার দোয়া করেছেন হলককারীদের (যারা মাথা মুণ্ডন করে) জন্য, এবং শেষে চুল ছোট করা ব্যক্তিদের জন্যও (সহিহ বুখারি ১৭২৮)।
শারীরিক ও মানসিক পরিশুদ্ধি লাভ
আত্মনিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি
ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি
লেখক: হাফেজ মাওলানা আজিজুল হক
পেশা: কলামিস্ট ও মাদ্রাসাশিক্ষক