৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

কঠোর আইন সত্ত্বেও আয়ারল্যান্ডে মদ্যপান সংস্কৃতি বদলানো কঠিন চ্যালেঞ্জ

admin
প্রকাশিত ৩০ নভেম্বর, রবিবার, ২০২৫ ২৩:১০:৩৬
কঠোর আইন সত্ত্বেও আয়ারল্যান্ডে মদ্যপান সংস্কৃতি বদলানো কঠিন চ্যালেঞ্জ

Manual7 Ad Code

আয়ারল্যান্ডে বহুদিন ধরেই মদ্যপান এক গভীর সামাজিক অভ্যাস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। গ্রামীণ অঞ্চল থেকে রাজধানী ডাবলিন—বন্ধুদের আড্ডা, উৎসব কিংবা ছোটখাটো উদ্‌যাপন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই মদ অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হিসেবে বিবেচিত। দেশটির তরুণ সমাজও অল্প বয়সেই মদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে যায়। অনেক আইরিশ ১৪-১৫ বছরেই মদ্যপান শুরু করেন এবং ১৭ বছর বয়সে বাবা-ছেলে একসঙ্গে প্রথম পাব অভিজ্ঞতা নেওয়া দেশটিতে স্বাভাবিক দৃশ্য।

Manual3 Ad Code

দীর্ঘদিনের এই সামাজিক অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে আনতে আয়ারল্যান্ড সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২০ সাল থেকে দেশের সুপারমার্কেটগুলোতে মদের তাক অন্য পণ্য থেকে ব্যারিকেড দিয়ে আলাদা করা বাধ্যতামূলক করা হয়। আরও কঠোর পদক্ষেপ আসে ২০২৩ সালে, যখন সরকার মদের বোতলে স্বাস্থ্যঝুঁকির সতর্কতা লেবেল দেওয়ার নিয়ম চালু করে। এসব লেবেলে বলা হয়—মদ্যপান লিভারের রোগ সৃষ্টি করে, ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় এবং গর্ভস্থ ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে।

যদিও কিছু বোতলে সতর্কতা লেবেল দেখা যাচ্ছে, এর বাধ্যতামূলক কার্যকারিতা ২০২৮ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকার বলছে, বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তার কারণে এ বিলম্ব। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন—মদ শিল্পের লবিংয়ের চাপই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। ‘ড্রিংকস আয়ারল্যান্ড’ নামের শিল্প সংগঠনও দাবি করেছে, সতর্কতা লেবেল থাকলে তা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সব দেশে একসঙ্গে কার্যকর হওয়া উচিত।

Manual1 Ad Code

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণ সমাজের মদ্যপানের ধরন পরিবর্তন হলেও সামগ্রিক উদ্বেগ এখনো রয়ে গেছে। গত ২৫ বছরে দেশটিতে মদ্যপান এক-তৃতীয়াংশ কমলেও তরুণেরা গড়ে ১৭ বছর বয়সে মদ খাওয়া শুরু করছে—যা দুই দশক আগের তুলনায় দুই বছর বেশি। কিন্তু একবার শুরু করলে তারা দ্রুতই ভারী মদ্যপায়ী হয়ে ওঠে।
২০২৪ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১৫-২৪ বছর বয়সী তরুণদের ৭৫ শতাংশ মদ পান করে এবং প্রতি তিনজনের দুজন নিয়মিত ‘বিঞ্জ ড্রিংকিং’-এ জড়িয়ে পড়ে।

Manual2 Ad Code

অনেকের মতে, সতর্কতা লেবেল কিছুটা প্রভাব ফেলছে। তবে ২৩ বছরের আমান্ডা বলেন, “মানুষ এগুলো গুরুত্ব দেবে না।” শন নামের এক তরুণ বলেন, “সবাই জানে মদ ক্ষতিকর, তবুও তো পান করি।”

অন্যদিকে স্যাম, হেলেন ও মার্কের মতো তরুণেরা স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ কিংবা অর্থ সাশ্রয়ের কারণে মদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কিন্তু জ্যাকের মতো অনেকেই মনে করেন—আয়ারল্যান্ডের সংস্কৃতিতে মদ এতটাই গভীরভাবে প্রোথিত যে পুরোপুরি পরিহার করা কঠিন। “চেষ্টা করি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পিন্ট ধরেই ফেলি”—বললেন তিনি।

Manual4 Ad Code

সরকারি বিলম্ব, দীর্ঘদিনের সামাজিক অভ্যাস এবং তরুণদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া মিলিয়ে আয়ারল্যান্ডে মদ্যপান সংস্কৃতির পরিবর্তন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।