
সিলেট জেলার নির্বাচিত ৪৮ জনের তালিকায় স্থান, পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ
জাহেদ আহমেদ (শাকিল) :: নিজের মেধা, যোগ্যতা, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল পদ থেকে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার আমুড়া গ্রামের কৃতী সন্তান শাহজাহান আহমদ। বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) নিয়োগ-২০২৬-এর চূড়ান্ত ফলাফলে সিলেট জেলা থেকে নির্বাচিত ৪৮ জনের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন তিনি। তাঁর এ সাফল্যে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।
শাহজাহান আহমদ গোলাপগঞ্জ উপজেলার ৯নং পশ্চিম আমুড়া ইউনিয়নের আমুড়া গ্রামের মরহুম ছালেহ আহমদের একমাত্র ছেলে। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ পুলিশের একজন দক্ষ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে চাকরির পাশাপাশি নিরলসভাবে চালিয়ে গেছেন পড়াশোনা ও প্রস্তুতি।
জানা যায়, ২০২৩ সালে ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে একই বছরের ৯ নভেম্বর বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে যোগদান করেন শাহজাহান আহমদ। কর্মজীবনের শুরুতে মৌলভীবাজার জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ঢাকার গুলশান-২ এলাকায় কর্মরত ছিলেন।
পুলিশের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের লক্ষ্য অর্জনে নিয়মিত প্রস্তুতি অব্যাহত রাখেন তিনি। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে সিলেট জেলার প্রার্থী হিসেবে প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে গত ২১, ২২ ও ২৩ জুন শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সফলতা অর্জন করেন। এরপর ৩১ জুলাই ও ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত লিখিত ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষায় অংশ নেন। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ফলাফলে মেধার ভিত্তিতে উত্তীর্ণ হয়ে পরবর্তী ধাপের জন্য নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে ৩০ সেপ্টেম্বর সিলেট রেঞ্জ অফিসে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন তিনি। নিয়োগের প্রতিটি ধাপে নিজের যোগ্যতা ও মেধার পরিচয় দিয়ে অবশেষে ৩ নভেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে প্রাথমিকভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হন। সিলেট জেলা থেকে নির্বাচিত ৪৮ জনের তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারা তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
শাহজাহান আহমদ বর্তমানে চাকরির পাশাপাশি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত রয়েছেন। কর্মজীবন ও শিক্ষাজীবন একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় প্রত্যয়ের পরিচয় দিয়েছেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শাহজাহান আহমদ মহান আল্লাহর দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর অশেষ রহমত, নিজের কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য, অধ্যবসায় এবং পরিবারের দোয়ার কারণেই আজকের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। এ সময় তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁর মরহুম বাবাকে স্মরণ করেন। পাশাপাশি মা-বাবার দোয়া, ত্যাগ ও পরিবারের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের পেছনে অনেকের দোয়া ও ভালোবাসা রয়েছে। বিশেষ করে নিজ গ্রামের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেন। ভবিষ্যতেও সততা, নিষ্ঠা ও ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, বাংলাদেশ পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে দেশ ও মানুষের সেবা করতে চান। পেশাগত জীবনে সততা, মানবিকতা ও পেশাদারত্ব বজায় রেখে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি হালাল উপার্জন ও ন্যায়নীতির পথে অবিচল থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, একজন সাধারণ কনস্টেবল হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে নিজের মেধা, যোগ্যতা ও নিরলস প্রচেষ্টায় এএসআই পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া শাহজাহান আহমদের জীবনের এক অনন্য সাফল্য। তাঁর এই অর্জন তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।