নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নোয়াখালীর কবিরহাট-সোনাপুর সড়কে একটি দ্রুতগতির তেলবাহী লরির চাপায় শফিকুর রহমান (৬২) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় নিহতের দুই ছেলেসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে কবিরহাট উপজেলার বানদত্ত ট্রান্সমিটার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শফিকুর রহমান তাঁর দুই ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৩) ও সাইদুর রহমানকে (২০) নিয়ে মোটরসাইকেলে করে নিজেদের দোকানে আসেন।
এমন সময় সোনাপুর থেকে আসা ‘যমুনা’ নামের একটি তেলবাহী লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দোকানের সামনে থাকা শফিকুর ও তাঁর ছেলেদের চাপা দিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই শফিকুর রহমানের মৃত্যু হয়। আহত হন তাঁর দুই ছেলে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী সোহাগ।
উদ্ধার ও চিকিৎসা
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শফিকুর রহমানের দুই ছেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান।
জনরোষ ও সড়ক অবরোধ
দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা লরির চালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে এবং ওই স্থানে গতিরোধক (স্পিড ব্রেকার) নির্মাণের দাবিতে প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলাম এবং কবিরহাট থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। ওই স্থানে অতিদ্রুত স্পিড ব্রেকার বা ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিলে স্থানীয়রা অবরোধ তুলে নেন।
স্থানীয়দের ক্ষোভ
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কবিরহাট-সোনাপুর সড়কটি উন্নয়ন করা হলেও জনবহুল এই এলাকায় কোনো স্পিড ব্রেকার দেওয়া হয়নি। আশেপাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তা পারাপার হয়।
পুলিশের বক্তব্য
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, ঘাতক লরিটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালক পুলিশ হেফাজতে আছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।