শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, সিলেট অঞ্চলের তরুণ-তরুণীদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর চাহিদা কাজে লাগাতে ভাষা শিক্ষা ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভবন নির্মাণের অপেক্ষায় না থেকে উপযুক্ত পরিত্যক্ত সরকারি স্থাপনায় দ্রুত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সর্বজনীন শিবমন্দিরে দুর্গাপূজা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদ সদস্য আলহাজ মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, জাপানি, কোরীয়, ইংরেজি ও আরবি ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। প্রশিক্ষণ শেষে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কাজ করবে। এ জন্য প্রশিক্ষণকেন্দ্রের উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ, দক্ষ প্রশিক্ষক নিয়োগ এবং দ্রুত কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সিলেট অঞ্চলের তরুণদের সরকারি চাকরি, পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি শুধু সাধারণ শিক্ষার ওপর নির্ভর না করে কারিগরি ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ভাষাগত দক্ষতা ও পেশাগত যোগ্যতা অর্জন জরুরি। প্রশিক্ষিত ও যোগ্য কর্মী তৈরি করা গেলে বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছা জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ বাংলাদেশি। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় রেখে দেশের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নির্বাচনে কে কাকে ভোট দিয়েছেন, তা বিবেচনায় না নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের সবার জন্য কাজ করতে হবে। এলাকার উন্নয়নে দলমত-নির্বিশেষে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা জরুরি। তিনি দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনে সহযোগিতার জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এর আগে মন্ত্রী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
মন্দির পরিদর্শনকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব দেবজিৎ সিংহ,
মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবদুর রহমান রিপন, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য, পূজারি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।