
নিজস্ব প্রতিবেদক, কমলগঞ্জ: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে হেলিম মিয়া নামের এক ব্যক্তির এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে বকুল বেগম (৫৬) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামে এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে হেলিম মিয়া তার ভাইয়ের ঘরে ঢুকে দুই ভাতিজা সাঈদুল ইসলাম (১৮) ও আমিনুল ইসলামকে (১৬) ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। প্রাণ বাঁচাতে তারা দৌড়ে পাশের বাড়ির বকুল বেগমের ঘরে আশ্রয় নেয়। ঘাতক হেলিম সেখানে গিয়েও তাদের ওপর হামলা চালায় এবং বাধা দিতে এলে বকুল বেগম ও তার জামাই অজুদ মিয়াকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বকুল বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আমিনুল ইসলাম ও অজুদ মিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেটে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ধাওয়া করে হামলাকারী হেলিম মিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, হেলিম মিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সহিংস আচরণ করে আসছেন। এর আগেও তিনি একাধিক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করেছেন। পুলিশ তাকে কয়েকবার আটক করলেও কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে তিনি পুনরায় একই ধরনের অপরাধে লিপ্ত হন।
নিহত বকুল বেগমের মেয়ে পারভীন বেগম আহাজারি করে বলেন, "আমার মা নিরপরাধ ছিলেন। আমার চাচাতো ভাইদের বাঁচাতে গিয়ে তিনি এবং আমার বোনের স্বামী হামলার শিকার হন। হেলিম মিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য পপি বেগম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আশ্রয় নিতে আসা ব্যক্তিদের বাঁচাতে গিয়েই বকুল বেগম প্রাণ হারান। ঘাতকের উগ্র মেজাজ ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে এলাকাবাসী আতঙ্কিত।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আউয়াল জানান, ঘাতক হেলিম মিয়াকে আটক করে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দ্রষ্টব্য: এই মর্মান্তিক ঘটনায় বকুল বেগমের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা রইল। হেলিম মিয়ার মতো পুনরাবৃত্ত অপরাধীদের ক্ষেত্রে আইনের কঠোর প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি।