নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট | তারিখ: ২ মার্চ, ২০২৬
সিলেট নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকায় ছিনতাইকারীদের রক্ষায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। অপরাধীদের আড়াল করতে তিনি খোদ ‘পথের কাঁটা’ হিসেবে পরিচিত এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মোবাশ্বিরকে সরিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
চৌকস অফিসার হিসেবে পরিচিত শাহ মোবাশ্বিরকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার নেপথ্যে যা ছিল
সম্প্রতি হাউজিং এস্টেট এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে সিএনজি থামিয়ে এক নারীর টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে এই ঘটনার মূল হোতা বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ শফি শাহেদ ওরফে ‘ডুম শাহেদ’ এবং তার সহযোগী কয়েকজন ছাত্রদল নেতা।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওসি মোবাশ্বির সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করেন এবং তাদের গ্রেফতারের অনুমতি চান।
লোদীর ‘অন্যায় আবদার’ ও ওসির বিদায়
ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী ইতিবাচক সাড়া দিলেও সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কয়েস লোদী। দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করলে ‘দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে’—এমন অজুহাতে তিনি অপরাধীদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশকে প্রচণ্ড চাপ দেন।
কিন্তু ওসি শাহ মোবাশ্বির পেশাদারিত্বের প্রশ্নে আপোষহীন থেকে সেই অন্যায় আবদার প্রত্যাখ্যান করেন। ফলস্বরূপ, কয়েস লোদীর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত শাহ মোবাশ্বিরকে ওসি পদ থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
নেতৃত্বে প্রশ্ন ও জনমনে ক্ষোভ
এক সময় সিলেট বিএনপিতে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন কয়েস লোদী। কিন্তু বর্তমান সময়ে ডুম শাহেদের মতো চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজদের ‘শেল্টার’ দেওয়া এবং একজন দক্ষ অফিসারকে সরাানোর পেছনে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন খোদ তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই।
সচেতন মহলের মতে, অপরাধীদের প্রশ্রয় দিয়ে নিজের ক্যারিয়ার ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন এই নেতা। এভাবে চলতে থাকলে ‘নগর পিতা’ হওয়ার যে স্বপ্ন তিনি দেখছেন, তা অচিরেই ধূলিসাৎ হতে পারে।