আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
পাকিস্তানের করাচির সোলজার বাজার এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের একাংশ ধসে পড়ার ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর মতে, গ্যাস লিক থেকে হওয়া শক্তিশালী বিস্ফোরণের ফলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এ ঘটনায় আরও ১১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার অভিযান
ঘটনাটি সোলজার বাজারের গুল রানা কলোনির একটি বাড়িতে ঘটে। স্থানীয় পুলিশের মুখপাত্র জানান, গ্যাসের পাইপলাইন থেকে লিক হওয়া গ্যাস জমে এই বিস্ফোরণ ঘটে, যা ভবনের একটি অংশকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়।
দুর্ঘটনার পর দ্রুতই উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেসকিউ-১১২২’ এবং আরবান সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। আহত ও নিহত ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে সিভিল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকাটি ঘিরে রেখেছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি করাচির কমিশনারকে ঘটনার কারণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে প্রাদেশিক সরকার।
করাচিতে ভবন ধসের পুনরাবৃত্তি
করাচিতে ভবন ধস বা এ ধরনের দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। ইতিপূর্বে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে লিয়ারি এলাকায় একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ধসে ২৭ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এর ঠিক এক মাস পর ওউরাঙ্গি টাউনেও গ্যাস বিস্ফোরণে একটি রাজনৈতিক কার্যালয় ধসে পড়েছিল।
করাচিতে বারবার এই ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু বিষয় চিহ্নিত করেছেন:
-
নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার।
-
পুরোনো ও জরাজীর্ণ অবকাঠামো।
-
অবৈধ সম্প্রসারণ ও জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপ।
-
ভবন নির্মাণ বিধিমালা (Building Code) বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের শিথিলতা।
উল্লেখ্য, দুই কোটির বেশি মানুষের এই মেগাসিটিতে সিন্ধ বিল্ডিং কন্ট্রোল অথরিটি প্রায় ৫৮৮টি ভবনকে আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছিল, যা এখনো বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।