২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৩রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

করাচির শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: উদ্ধারকর্মীসহ নিহত ৬, ধসে পড়ার শঙ্কা

admin
প্রকাশিত ১৮ জানুয়ারি, রবিবার, ২০২৬ ১৭:২৫:১৪
করাচির শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: উদ্ধারকর্মীসহ নিহত ৬, ধসে পড়ার শঙ্কা

Manual2 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | করাচি, পাকিস্তান

পাকিস্তানের করাচি শহরের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা এম এ জিন্নাহ রোডের গুল প্লাজা শপিং মলে এক বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। শনিবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এই আগুন প্রায় ১৪ ঘণ্টার চেষ্টায় আজ রোববার দুপুরে নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। তবে আগুনের তীব্রতায় বহুতল ভবনটির একাংশ ধসে পড়ায় ভেতরে আরও মানুষের আটকা পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে প্রাণহানি

ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, নিহতদের অধিকাংশেরই মৃত্যু হয়েছে ঘন ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে। এছাড়া দগ্ধ অবস্থায় অন্তত ২০ জনকে করাচির সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। নিহতদের মধ্যে ফোরকান নামে একজন উদ্ধারকর্মীও রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন করাচির মেয়র মুর্তজা ওহাব।

Manual1 Ad Code

আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শপিং মলের নিচতলার একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই তা পুরো কমপ্লেক্সে ছড়িয়ে পড়ে। ১ হাজার ২০০টি দোকান সম্বলিত এই মলের নিচতলার প্রায় সব দোকান ও গুদাম ভস্মীভূত হয়েছে।

Manual4 Ad Code

গার্ডেন সাবডিভিশনাল পুলিশ অফিসার মহসিন রাজা জানান:

Manual3 Ad Code

“প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। ভবনে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন বা অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। ভবনটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে।”

রাষ্ট্রীয় শোক ও পদক্ষেপ

এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তা এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সিন্ধু সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন। সিন্ধু প্রদেশের গভর্নর এবং মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

Manual5 Ad Code

উল্লেখ্য, একই দিনে পাকিস্তানে পৃথক এক সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা দেশটিতে শোকের ছায়া আরও ঘনীভূত করেছে।