
কানাইঘাটে ওসি আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এক মাসে একাধিক উল্লেখযোগ্য সাফল্যের অভিযান আটক-উদ্ধার কার্যক্রম
মুফিজুর রহমান নাহিদ, স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা কানাইঘাটে মাদক, চোরাচালান ও অপরাধ দমনে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে থানা পুলিশ। গত এক মাসে মাদক উদ্ধার, অবৈধ ভারতীয় পণ্য জব্দ, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার, হত্যা মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনা এবং অপহৃত কিশোরী উদ্ধারের মতো একাধিক ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা আলোচনায় এসেছে। এসব কার্যক্রমে নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম।
প্রকাশিত সংবাদ ও পুলিশের বরাত দিয়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে কানাইঘাট থানা পুলিশের একাধিক উল্লেখযোগ্য সাফল্যের তথ্য পাওয়া গেছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা উদ্ধার, গত ১৭ অক্টোবর রাতে উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের মমতাজগঞ্জ বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ তোফায়েল আহমদ স্বপন (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও দুজন পালিয়ে যায়। ওসি আমিনুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
সালফারসহ পিকআপ জব্দ, গ্রেপ্তার ১১১ অক্টোবর রাত ৩টার দিকে উপজেলার বড়চতুল ইউনিয়নের চতুল বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯৬০ কেজি সালফার টুকরাভর্তি একটি পিকআপ জব্দ করে পুলিশ। এ ঘটনায় জাকির আহমদ (৩১) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দকৃত সালফারের আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়।
ভারতীয় পণ্য জব্দ ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান, ২৪ অক্টোবর রাতে কানাইঘাট পূর্ব বাজারের ডাকবাংলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারতীয় ৩০৮ পিস ব্যবহারিক তেল ও ৭২ পিস সাবানসহ সুফিয়ান আহমদ (১৯) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশ। জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৯ হাজার ৬৪০ টাকা। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়।
ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার, ৫ অক্টোবর রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে দুই ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে একজন দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। অন্যজনের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। পরে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার, ১৫ অক্টোবর গভীর রাতে উপজেলার দনা বাঙ্গালীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচ নম্বর আসামি রিয়াজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওসি আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে স্থানীয়দের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। এর আগে একই মামলার আরও তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানায়।
হত্যাকাণ্ডের পর দ্রুত অভিযান, গ্রেপ্তার পাঁচ, ২০ অক্টোবর উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সামতলা এলাকায় সিএনজিচালক শাহাব উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। পরদিন ২১ অক্টোবর একই পরিবারের পাঁচজনকে স্থানীয় বাসিন্দারা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে পুলিশ তাঁদের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়।
অপহৃত কিশোরী উদ্ধার, গ্রেপ্তার অভিযুক্ত যুবক, সাম্প্রতিক সময়ে কানাইঘাট থানা পুলিশের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হলো অপহৃত ১৫ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে উদ্ধার। ২ নভেম্বর গভীর রাতে উপজেলার দীঘিরপাড় ইউনিয়নের মাছুগ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার এবং পারভেজ আহমদ নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওসি আমিনুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় এসআই দুর্গা কুমার দেব সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করেন। পরে এ ঘটনায় মামলা রুজু করে গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়।
সীমান্তবর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্ব, কানাইঘাট একটি সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণ এবং অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও পুলিশকে কাজ করতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান, চেকপোস্ট স্থাপন, আসামি শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কার্যক্রম দেখা গেছে।
সার্বিকভাবে গত এক মাসের প্রকাশিত সংবাদগুলোতে কানাইঘাট থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান, চোরাচালান প্রতিরোধ, অপরাধী গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী উদ্ধারের কার্যক্রমের চিত্র উঠে এসেছে। এসব অভিযানে ওসি মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনার বিষয়টি একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নয়ন, অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ, সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাইপণ্য প্রবেশ বন্ধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পুলিশের জবাবদিহি ও জনবান্ধব কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।