১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

কানাইঘাটে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ: লাশ ঝুলিয়ে রাখার দাবি পরিবারের

admin
প্রকাশিত ১৮ ফেব্রুয়ারি, বুধবার, ২০২৬ ১৭:২৮:৩২
কানাইঘাটে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ: লাশ ঝুলিয়ে রাখার দাবি পরিবারের

Manual7 Ad Code

কানাইঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি | ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের তালবাড়ী খালপার গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। নিহত সুহাদা বেগম (৩৮) সৌদি আরব প্রবাসী আবুল কালামের স্ত্রী এবং দুই সন্তানের জননী। নিহতের পরিবারের দাবি, জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

নিহতের ছেলে হাফেজ রেজওয়ান আহমদ জানান, গত শুক্রবার জুমআর নামাজের সময় তিনি ও তার ভাই কামরান আহমদ মসজিদে যান। নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে তারা বসতঘরের স্টিলের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পর সাড়া না পেয়ে রান্নাঘরের খোলা দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে তারা দেখতে পান তাদের মায়ের দেহ ঘরের তীরের সাথে ঝুলছে।

Manual6 Ad Code

রেজওয়ান আরও জানান, “মায়ের গলায় শাড়ির আঁচল প্যাঁচানো থাকলেও তার দুই পায়ের হাঁটু খাটের বালিশের সাথে লেগে ছিল।” এই অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখে চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলেও অভিযুক্ত জা (জ্যা) জিলেখা বেগম ও তার ছেলে ফয়ছল আহমদ ঘটনাস্থলে আসেননি।

Manual1 Ad Code

অভিযোগের তীর যাদের দিকে

নিহতের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে জমিজমা নিয়ে সুহাদা বেগমের সাথে তার জা জিলেখা বেগমের বিরোধ চলছিল। ঘটনার দুদিন আগে গত বুধবার জিলেখা ও তার ছেলে ফয়ছল সুহাদা বেগমকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন।

নিহতের ভাই দেলোয়ার ও মামাতো ভাই ইসলাম উদ্দিন অভিযোগ করেন যে, জিলেখা বেগম, তার ছেলে ফয়ছল আহমদ, মেয়ে নাজমিন আক্তার এবং জামাতা আলী আহমদ পরিকল্পিতভাবে জুমআর নামাজের সময় সুহাদা বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছেন।

পুলিশি পদক্ষেপ ও পরিবারের অসন্তোষ

ঘটনার খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কানাইঘাট থানার এসআই হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন।

Manual4 Ad Code

পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তারা গত রবিবার ৪ জনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ তা নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করেনি। পুলিশ এটিকে একটি ‘অপমৃত্যু’ (UD) মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি

থানায় কোনো প্রতিকার না পেয়ে নিহতের পরিবার এখন সিলেটের বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রবাসী স্বামী আবুল কালাম প্রবাস থেকেই এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হাফিজুর রহমান বলেন, “সুহাদা বেগম আত্মহত্যা করেছেন নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারাও এই রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

Manual3 Ad Code