৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

কারাফটকে স্ত্রী-সন্তানের লাশ দেখলেন বাগেরহাট ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম

admin
প্রকাশিত ২৫ জানুয়ারি, রবিবার, ২০২৬ ০১:৫৩:১১
কারাফটকে স্ত্রী-সন্তানের লাশ দেখলেন বাগেরহাট ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম

Manual4 Ad Code

বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ ঘোষিত) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম কারাফটকে শেষবারের মতো স্ত্রী ও সন্তানকে দেখেছেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে দূর থেকে তাকে স্ত্রী-সন্তানের মুখ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।

Manual7 Ad Code

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে সাদ্দামের পরিবারের ছয় সদস্যকে কারাফটকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। এ সময় সাদ্দামকে প্রায় পাঁচ মিনিট সময় দেওয়া হয় স্ত্রী ও সন্তানকে দেখার জন্য।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন জুয়েল হাসান সাদ্দাম। বর্তমানে তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২৬) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পাশেই নিথর অবস্থায় পাওয়া যায় তাদের ৯ মাস বয়সী শিশু নাজিমকে।

Manual6 Ad Code

পুলিশ ও সাদ্দামের পরিবারের দাবি, হতাশাগ্রস্ত হয়ে সুবর্ণা স্বর্ণালী প্রথমে শিশু সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন। পুলিশ জানায়, সুবর্ণা স্বর্ণালীকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং শিশুটির মরদেহ মেঝেতে পড়ে ছিল।

এই মৃত্যুর ঘটনার পর সাদ্দামের স্বজনরা তার প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন। তবে প্রশাসন সে আবেদন নাকচ করে দেয়।

শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে সাদ্দামের স্বজনরা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছান। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পরিবারের ছয় সদস্যসহ অ্যাম্বুলেন্সটি কারাফটকে প্রবেশের অনুমতি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।

সাদ্দামের চাচাতো ভাই সাগর ফারাজী বলেন, “স্ত্রী ও সন্তান মারা যাওয়ার পর আমরা কারাগারে যোগাযোগ করি। কিন্তু প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি। উনি কোনো হত্যা মামলার আসামি নন, রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। মানবিক দিক বিবেচনায় তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া উচিত ছিল।”

Manual8 Ad Code

সাদ্দামের শ্যালিকা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সে কোনো খুনি না। রাজনৈতিক মামলার আসামি হয়েও তাকে ছাড় দেওয়া হলো না। জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেত।”

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ বলেন, “কারাফটকে লাশ আনা হলে মানবিক বিবেচনায় আমরা স্বজনদের মরদেহ দেখার সুযোগ দিয়ে থাকি। এ ক্ষেত্রেও ছয়জন স্বজনকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।”

Manual2 Ad Code