গাজীপুর প্রতিনিধি | ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬
গাজীপুরের কালীগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লিটন চন্দ্র ঘোষ (৫৫) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘কালী ময়রা’ নামে পরিচিত ছিলেন। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একই পরিবারের তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা।
ঘটনার বিবরণ
নিহত লিটন চন্দ্র ঘোষ কালীগঞ্জ পৌরসভা সংলগ্ন বড়নগর সড়কের ‘বৈশাখী সুইটমিট অ্যান্ড হোটেল’-এর মালিক ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে দোকানের এক কিশোর কর্মীকে মারধর করছিলেন প্রতিবেশী মাসুম মিয়া (২৮)। এ সময় লিটন চন্দ্র ঘোষ ওই কর্মীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে মাসুম, তার বাবা স্বপন মিয়া (৫৫) এবং মা মাজেদা খাতুন (৪৫) মিলে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে বেলচা দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
তিন ঘাতক আটক
হামলার পরপরই স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে অভিযুক্ত মাসুম মিয়া, তার বাবা স্বপন এবং মা মাজেদাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। আটককৃতদের বাড়ি উপজেলার বালীগাঁও এলাকায়।
পরিবার ও পুলিশের বক্তব্য
নিহতের পরিবারের দাবি, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং পূর্ববিদ্বেষ থেকে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, “ঘটনার পরপরই জড়িত তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
জনমনে আতঙ্ক
এই হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়েছে। এই নৃশংস ঘটনাটি আবারও দেশের সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সহনশীলতার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।