২৩শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

কাশ্মীরে ‘মসজিদ প্রোফাইলিং’: ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের হিড়িকে মুসলিমদের মধ্যে চরম উদ্বেগ

admin
প্রকাশিত ১৯ জানুয়ারি, সোমবার, ২০২৬ ২১:০২:৪৫
কাশ্মীরে ‘মসজিদ প্রোফাইলিং’: ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের হিড়িকে মুসলিমদের মধ্যে চরম উদ্বেগ

Manual2 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬

ভারত-শাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় নজরদারি বাড়ানোর এক নতুন উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। ‘মসজিদ প্রোফাইলিং’ শিরোনামে চার পাতার একটি ফরম বিতরণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা কাশ্মীরি মুসলিমদের মধ্যে গভীর নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

তথ্যের বহর: পাসপোর্ট থেকে ক্রেডিট কার্ড

জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের পক্ষ থেকে বিতরণ করা এই ফরমটি কেবল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের তথ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এতে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সম্পর্কে অত্যন্ত স্পর্শকাতর তথ্য চাওয়া হয়েছে:

  • ব্যক্তিগত তথ্য: মোবাইল নম্বর, ই-মেইল, পাসপোর্টের বিস্তারিত এবং ব্যাংক হিসাবের তথ্য।

    Manual8 Ad Code

  • আর্থিক তথ্য: মাসিক ব্যয়, আয়ের উৎস এবং ক্রেডিট কার্ডের তথ্য।

    Manual6 Ad Code

  • সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রযুক্তি: ব্যবহারকারীর সোশ্যাল মিডিয়া আইডি এবং এমনকি মোবাইল ফোনের মডেল নম্বরও উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।

    Manual4 Ad Code

  • পারিবারিক যোগসূত্র: কোনো আত্মীয় বিদেশে থাকেন কি না বা কেউ কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কি না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

‘শান্তিতে থাকার সুযোগ নেই’

শ্রীনগরের মসজিদ পরিচালনা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত মোহাম্মদ নওয়াজ খান আল-জাজিরাকে বলেন, “আমি বুঝতে পারছি না পুলিশের এত ব্যক্তিগত তথ্যের কী প্রয়োজন। কাশ্মীরের মতো সংঘাতপূর্ণ এলাকায় এই তথ্যগুলো আমাদের পরিবারের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এখানে শান্তিতে থাকার কোনো সুযোগ নেই।”

অনেক ইমাম ও খতিব এই তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। লাল বাজার এলাকার ইমাম হাফিজ নাসির মীর জানান, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক এবং ভবিষ্যতে এই তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত হবে তা নিয়ে তারা শঙ্কিত।

ধর্মীয় জোটে তীব্র প্রতিবাদ

কাশ্মীরের বৃহত্তম ধর্মীয় জোট মুতাহিদা মজলিশ-ই-উলেমা (এমএমইউ) এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, মসজিদ একটি পবিত্র ইবাদতখানা। রাষ্ট্রের কোনো অধিকার নেই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এভাবে হস্তক্ষেপ করার। স্থানীয়দের মতে, এটি সাধারণ কোনো জরিপ নয় বরং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি অপকৌশল।

Manual3 Ad Code

প্রেক্ষাপট: ২০১৯-পরবর্তী কাশ্মীর

২০১৯ সালে নরেন্দ্র মোদি সরকার সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মাধ্যমে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেওয়ার পর থেকেই অঞ্চলটিতে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ কঠোর হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই ‘প্রোফাইলিং’ উদ্যোগটি মূলত কাশ্মীরিদের ওপর নজরদারির একটি নতুন ডিজিটাল স্তর, যা উপত্যকায় চলমান অবিশ্বাসের পরিবেশকে আরও ঘনীভূত করছে।