৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

কিশোর শিহাবের নির্মম মৃত্যু: পরিবারের আকুতি — ‘হত্যাকারীরা যেন শাস্তি পায়’

admin
প্রকাশিত ০২ নভেম্বর, রবিবার, ২০২৫ ১৮:১০:৩২
কিশোর শিহাবের নির্মম মৃত্যু: পরিবারের আকুতি — ‘হত্যাকারীরা যেন শাস্তি পায়’

Manual3 Ad Code

গোদাগাড়ী (রাজশাহী) সংবাদদাতা:
১৭ বছর বয়সী কিশোর শিহাব আলীকে স্থানীয়রা বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পর তার মৃত্যুতে গোদাগাড়ীর বসন্তপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিহাব গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গেলে হামলার শিকার হন; ১৩ দিন রামেক (রাজশাহী মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার তিনি প্রাণ হারান। রবিবার বাদ আসর তাকে বস্তন্তপুর গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

Manual5 Ad Code

শিহাব বসন্তপুর গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান রিপনের ছেলে। দুই বোনের মধ্যে সে একমাত্র ছেলে; চলতি বছর এসএসসি পাস করেছিল এবং বাবার দোকানে সহায়তা করত। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন ও পুরো গ্রামের মানুষ স্তম্ভিত ও শোকস্তব্ধ।

Manual5 Ad Code

পরিবারের দাবী ও ঘটনা
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিহাবের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এক কিশোরীর সঙ্গে; দেখা করতে গেলে প্রেমিকার প্রতিবেশীরা লাঠি নিয়ে হাজির হয় এবং বেধড়ক পিটুনি দেয়া হয়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রামেকে ভর্তি করা হয়; সেখানে ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান। শিহাবের মা শারমিন বেগম ও বাবা রিপন लगातार কাকুতি-কান্নায় ভেসেছেন—বাবার কথায় বারবার শুনা যায়, “তুই একবার চোখ খুলে তাকাস বাপ।”

Manual3 Ad Code

শিহাবের বাবা রিপন অভিযোগ করেন, যারা ছেলে কে পেটিয়েছে তাদের নাম তিনি জানিয়েও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছেনা; তারা প্রকাশ্যে ঘোরে। তিনি বলেন, “আমি মামলা করেছি; কিন্তু কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। আমরা ন্যায়ের বিচার চাই।”

আইনি কার্যক্রম ও অভিযোগ
ঘটনার পর গত ২৪ অক্টোবর রিপন গোদাগাড়ী থানায় রতন আলী, কানন, সুজন আলী, ইয়ার উদ্দীন, শরীফ, রাব্বি, হালিম, কলিম ও আরও কয়েক জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি শিহাবের মৃত্যুর পর হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে। তবে মামলার নথিতে থাকা আসামিদের পরিচয় ও অবস্থান জানালেও পুলিশ এখনও কারও গ্রেপ্তার করতে পারেনি—পরিবার ও আত্মীয়রা এর তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

শিহাবের খালাতো ভাই মাসুদ রানা বলেন, “কম বয়সী ছেলেটাকে নির্মমভাবে মারা হলো; আমরা শুধু চাই, ওর হত্যাকারীরা যেন শাস্তি পায়।”

পুলিশের প্রতিক্রিয়া
গোদাগাড়ী থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আসামিরা পলাতক। তারা বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় লুকালে — শিগগিরই তাদের ধরা হবে।”
জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল আলিম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে; কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Manual4 Ad Code


শিহাবের মৃত্যুর অভিযোগ ও মামলা সম্পর্কে দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করছেন গ্রামের মানুষ ও স্বজনরা। তারা জানিয়েছেন—যত দ্রুত উৎসাহিত বিচার হবে, ততই এলাকার আস্থা ফিরবে।