কুমিল্লা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) ভূমিকম্পের সময় হুড়োহুড়িতে অন্তত ৮০ জন নারী শ্রমিক অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন। দৌড়াদৌড়ির মধ্যে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। ঘটনাস্থলেই বেপজা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় ৫০ জন শ্রমিক, আর অতিরিক্ত আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়া ৩০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
আজ শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। দুলুনি শুরু হতেই কুমিল্লা ইপিজেডের বিভিন্ন ভবনের নারী শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত নিচে নেমে আসার সময় শুরু হয় হুড়োহুড়ি।
ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ভূমিকম্প শুরু হতেই দুটি কোম্পানির নারী কর্মীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়োহুড়ির কারণে অনেকে মেঝেতে পড়ে অচেতন হয়ে যান। তবে গুরুতর কেউ আহত হননি। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সবাইকে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তানভীর আহমেদ বলেন, “আমরা অন্তত ৩০ জন নারী শ্রমিককে চিকিৎসা দিয়েছি। বেশির ভাগই আতঙ্ক ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুলুনি অনুভূত হতেই ভবন থেকে বের হতে গিয়ে অনেক নারী পড়ে গিয়ে আঘাত পান। কেউ কেউ ভয়ে অফিসের মেঝেতে অজ্ঞান হয়ে যান।
এদিকে ভূমিকম্পে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার একটি পাঁচতলা ভবন হেলে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। একই উপজেলার আরেকটি ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা গেছে। ভূমিকম্পের পর পুরো কুমিল্লা নগরীতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।