
নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৬ মার্চ ২০২৬
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার একটি মাদ্রাসায় এক শিশুছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালক সাইদুল রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে ভেড়ামারা থানা পুলিশ।
ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, সাত-আট মাস আগে দৌলতপুরের বাসিন্দা ওই শিশুকে ভেড়ামারার চৈতন্য মোড় স্বর্ণপট্টি এলাকার 'জামিয়াতুননেছা কওমি মাদ্রাসা'য় ভর্তি করা হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৫ মার্চ) তারা শিশুটিকে আনতে গিয়ে দেখেন তার অবস্থা সংকটাপন্ন। তার পেট ও বাম পা অস্বাভাবিক ফুলে গেছে এবং শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। শিশুটি মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত যে সে কোনো কথা বলতে পারছে না।
মা জানান, এর আগেও মাদ্রাসায় শিশুদের নির্যাতনের কথা শুনে তিনি ভর্তি বাতিল করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরিচালকের স্ত্রীর আশ্বাসের কারণে মেয়েকে রেখে আসতে বাধ্য হন। সবশেষ শুক্রবার সন্ধ্যায় মেয়ের সঙ্গে তার কথা হয়, তখন মেয়েটি তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল।
বর্তমানে রামেক হাসপাতালে শিশুটিকে অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার অক্সিজেন স্যাচুরেশন বারবার কমে যাচ্ছে।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস জানান, “বাচ্চাটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। প্রাথমিক মেডিকেল পরীক্ষায় তার শরীরে যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাকে গাইনি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে।”
অভিযুক্ত মাদ্রাসা পরিচালক সাইদুল রহমান দাবি করেছেন, তিনি গত ছয় দিন ধরে ইতিকাফে ছিলেন। তিনি শিশুটির অসুস্থতাকে পায়ে ফোড়া হওয়ার কারণে সৃষ্ট শারীরিক সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাকে হয়রানি করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মাদ্রাসার পরিচালক সাইদুল রহমানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।