
নিজস্ব প্রতিবেদক | কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়া জেলায় হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ৯০ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। গত সোমবার দুপুর থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল ও পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসব শিশুকে ভর্তি করা হয়। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৩ জনে।
হটস্পট কুমারখালী ও দৌলতপুর
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের ৯০ শতাংশেরই বয়স ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে। জেলার দৌলতপুর ও কুমারখালী উপজেলাকে সংক্রমণের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১১ জন রোগীর শরীরে হামের অস্তিত্ব (পজিটিভ) নিশ্চিত হওয়া গেছে। আক্রান্তদের একটি বড় অংশই নিয়মিত হাম-রুবেলা টিকা পায়নি বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে।
হাসপাতালের চিত্র: শয্যা নেই, বারান্দায় ঠাসাঠাসি
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ২০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে শতাধিক রোগী চিকিৎসাধীন। তিল ধারণের জায়গা না থাকায় শিশুদের হাসপাতালের বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামের রোগীদের জন্য পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হলেও সেখানে শয্যা সংকটের কারণে এক বিছানায় দুজন করে শিশু রাখা হয়েছে। অধিকাংশ শিশুই তীব্র জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং শরীরে লালচে র্যাশ নিয়ে ভর্তি।
অভিভাবকদের অভিযোগ: কিনতে হচ্ছে সিরিঞ্জ ও অক্সিজেন-পানিও
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা গেছে। সদর উপজেলার ঝাউদিয়া গ্রাম থেকে আসা মিতু খাতুন অভিযোগ করেন:
“হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না। সিরিঞ্জ, অক্সিজেন দেওয়ার পানি, এমনকি জ্বরের সিরাপও বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ১,২০০ টাকা খরচ হচ্ছে। ডাক্তার দিনে মাত্র একবার রাউন্ডে আসেন।”
একই অভিযোগ করেছেন আলামপুর থেকে আসা নাজনীন আক্তার ও কুমারখালীর অন্তরা খাতুন। তাদের দাবি, সামান্য একটি সিরিঞ্জও হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে না।
দায়িত্বরতদের বক্তব্য
ওয়ার্ডে কর্মরত নার্স কামরুন্নাহার জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ নেই। স্টোরকক্ষে জানানো হলেও কোনো বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম বলেন, বর্তমানে ১৯ জন হামের রোগী ভর্তি আছে, যার মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। হাসপাতালে অক্সিজেন সাপোর্ট থাকলেও কোনো ভেন্টিলেশন সুবিধা নেই।
প্রশাসনের তৎপরতা
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ খোলা হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সভা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়ায় হামের সংক্রমণ হার গত বছরের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
সতর্কতা: আপনার শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর ও লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করুন এবং নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করুন।