আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা–মিরপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী প্রয়াত এক আওয়ামী লীগ নেতার কবর জিয়ারত করায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা–সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনা
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বিজেএম ডিগ্রি কলেজে শিক্ষার মান উন্নয়ন সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে রাগীব রউফ চৌধুরী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের কবর জিয়ারত করেন।
সঙ্গে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহজাহান আলীসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা–কর্মীরা।
ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ একে শোভনীয় নয় বলছেন, কেউ সামাজিক সৌজন্যতা হিসেবে দেখছেন।
পরিবারের মত
প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে যুবলীগ নেতা সোহেল রানা পবন জানান,
“তিনি (রাগীব) বাবার কবর জিয়ারত করেছেন, এটা সত্য। আমার দুই ভাই তাঁর সঙ্গে জুনিয়র হিসেবে কাজ করে। সেই সূত্রে হতে পারে। তবে আমরা কেউ উপস্থিত ছিলাম না।”
বিএনপির অভ্যন্তরে সমালোচনা
ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম বলেন,
“যাঁর কবর জিয়ারত করেছেন, তিনি আওয়ামী লীগ নেতা। তাঁর ছেলেরা যুবলীগ–স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা। বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর এভাবে কবর জিয়ারত করে প্রচারণা চালানো শোভনীয় নয়। মানুষও খারাপ বলছে।”
বিএনপি প্রার্থীর ব্যাখ্যা
ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী জানান,
“তিনি (আব্দুর রাজ্জাক) আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন, এটা আমার জানা ছিল না। যতদূর জানি, তিনি জাতীয় পার্টির রাজনীতি করতেন এবং ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও বারবার নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান। অনেক বছর আগে মারা গেছেন। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সৌজন্যতার জায়গা থেকেই কবর জিয়ারত করেছি।”
জেলা বিএনপির মন্তব্য
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন,
“এটা কোনো ইস্যু নয়। সম্পূর্ণ সামাজিক সৌজন্যতা।”