দেশের আট জেলায় গত পাঁচ মাসে অন্তত ৯ জন কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র কৃষক উইং ও কৃষিবিদ উইং। সংগঠন দুটি বলেছে, এটি কোনো ব্যক্তিগত দুর্বলতা নয়, বরং কৃষি খাতের ভয়াবহ সংকট, ঋণব্যবস্থার অমানবিক চাপ, কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্যহীনতা এবং রাষ্ট্রীয় অবহেলার করুণ পরিণতি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২৬ মার্চ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজশাহী, মেহেরপুর, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, মাগুরা, ফরিদপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় অন্তত ৯ জন কৃষক ঋণের বোঝা ও কৃষিজ সংকটে আত্মহত্যা করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। এনসিপির কৃষক উইং ও কৃষিবিদ উইং এক যৌথ সভায় এ ঘটনাগুলোকে ‘বিচ্ছিন্ন নয়, বরং ভয়াবহ জাতীয় সংকটের বহিঃপ্রকাশ’ বলে উল্লেখ করেছে।
কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারী আজাদ খান ভাসানী ও কৃষিবিদ উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারী গোলাম মর্তুজা সেলিম বলেন, “কৃষকের মৃত্যু আমাদের জাতির জন্য গভীর লজ্জার বিষয়। এটি সরকারের জন্য গুরুতর সতর্কবার্তা, যা উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।”
সংকট মোকাবিলায় তারা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন—
১. প্রতিটি আত্মহত্যার স্বতন্ত্র, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত।
২. এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সুদের শোষণ ও কৃষকদের ওপর অমানবিক চাপ বন্ধে কার্যকর আইন প্রয়োগ।
৩. ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারকে অবিলম্বে খাদ্য, আর্থিক সহায়তা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ।
৪. কৃষক আত্মহত্যা ও ঋণসংকট বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ডেটাবেইস তৈরি ও গবেষণা কার্যক্রম শুরু।