
নিজস্ব প্রতিবেদক, কেরানীগঞ্জ | ৪ এপ্রিল, ২০২৬
ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে অবস্থিত ‘এস এস লাইটার’ কারখানায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও কারখানাটির ভেতর থেকে এখন পর্যন্ত ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে, আগুন লাগার পর কারখানার মালিকপক্ষ শ্রমিকদের বের হতে বাধা দিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা ১টা ১৩ মিনিটে ওই গ্যাস লাইটার কারখানায় আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও কারখানার ভেতর থেকে একে একে পাঁচটি পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বিকেলে ৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করে জানান, মরদেহগুলো এতটাই দগ্ধ হয়েছে যে তাৎক্ষণিকভাবে নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
অগ্নিকাণ্ড থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা শ্রমিকদের দাবি, আগুন লাগার পরও কারখানার মালিক আকরামের ছেলে এবং দায়িত্বরত দারোয়ান শ্রমিকদের বাইরে বের হতে বাধা দেন। অনেক শ্রমিক জোর করে ধাক্কা দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারলেও মালিকপক্ষের নির্দেশে যারা ভেতরে অবস্থান করছিলেন বা যারা তালাবদ্ধ ছিলেন, তারা আর বের হতে পারেননি।
কারখানা থেকে অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসা ১১ বছর বয়সী শিশু শ্রমিক মিম জানায়, "আগুন লাগার পর মালিক ও দারোয়ান আমাদের বের হতে মানা করেছিল। আমি দারোয়ানকে ধাক্কা দিয়ে জোর করে বাইরে চলে আসি।" মিম এখন পর্যন্ত তার বাবা জাহিদ, মা এবং দাদি হাজেরার কোনো খোঁজ পায়নি। কান্নায় ভেঙে পড়া মিম জানায়, কারখানায় প্রায় ৭০ জন শ্রমিক কাজ করতেন, যার মধ্যে ৭-৮ জন ভেতরে আটকা পড়েছিলেন।
শ্রমিকদের বের হতে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠলেও কারখানার মালিক আকরামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই মালিকপক্ষ পলাতক রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা বর্তমানে কারখানার ভেতরে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
পরামর্শ: প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় শিশু শ্রমিক মিমের একটি আবেগঘন ছবি বা ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযানের ছবি যুক্ত করলে সংবাদের গুরুত্ব আরও বাড়বে। এছাড়া শিশু শ্রমের বিষয়টিও এখানে আইনিভাবে একটি বড় পয়েন্ট হতে পারে।