
কে এই ইন্তাজ আলী? সীমান্ত থেকে ইউনিয়ন পরিষদ—উত্থান, বিতর্ক ও নানা অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার :: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ১ নম্বর নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইন্তাজ আলীকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিও, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক ব্যবসায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং তার অতীত জীবন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইন্তাজ আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইন্তাজ আলীর পারিবারিক শিকড় কানাইঘাট উপজেলার উমাগড় এলাকায়। তাদের দাবি, তার দাদা প্রতি সপ্তাহে জৈন্তাপুরের হাটে সবজি বিক্রি করতে আসতেন। পরে আগফৌদ গ্রামের এক ব্যক্তির সহায়তায় সেখানে বসতি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ইন্তাজ আলীর বাবা আলী আহমদ নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইন্তাজ আলী সারীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও তা শেষ করেননি। এরপর সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন পণ্য আনা-নেওয়ার কাজে যুক্ত হন। এলাকাবাসীর দাবি, সেই সময় একবার সীমান্ত এলাকায় কাঠসহ আটক হওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। যদিও এ বিষয়ে কোনো সরকারি নথি বা আদালতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এরপর ধীরে ধীরে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং প্রথমে ইউপি সদস্য (মেম্বার) নির্বাচিত হন। পরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক ব্যবসা ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তার প্রভাব বাড়তে থাকে।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তিনি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠেন। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, জৈন্তাপুরের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজার ব্যবসা পরিচালনায় তার অনুসারীরা সক্রিয় ছিলেন। তাদের দাবি, চেয়ারম্যানের পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনও এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা গ্রহণ করতে গিয়ে তারা দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী অভিযোগ করেন, খাদ্য সহায়তা (কাবিখা) নিতে গেলে চেয়ারম্যানের অসদাচরণের শিকার হন তিনি। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো লিখিত মামলা বা প্রশাসনিক তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিও নিয়েও ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি নয় বলে মত দেয়—এমন তথ্য এর আগে প্রকাশ্যে এসেছে। তবে ভিডিওতে দেখা কর্মকাণ্ড নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ইন্তাজ আলীকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে যেসব অভিযোগ প্রচলিত রয়েছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।