
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ২নং পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের মেঘারগাঁও এলাকায় বসতভিটার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আম্বিয়া বেগম নামে এক নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী দানা মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী আম্বিয়া বেগমের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তার বসতভিটার জায়গা নিয়ে প্রতিবেশী দানা মিয়ার সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ ঘটনায় থানায় মামলাও হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সালিশ ব্যক্তিত্বরা দানা মিয়াকে ওই জায়গায় ঘর নির্মাণ না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন।
আম্বিয়া বেগম আরও অভিযোগ করেন, ওই নির্দেশ উপেক্ষা করে দানা মিয়া সেখানে বিল্ডিং নির্মাণের কাজ শুরু করেন। তিনি নির্মাণকাজে বাধা দিতে গেলে দানা মিয়া, তার স্ত্রী ও শ্বশুর মিলে তাকে মারধর করেন। এ সময় তিনি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন আম্বিয়া বেগম।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত দানা মিয়া বলেন, তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর ২০২০ সালে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর আম্বিয়া বেগম তার কাছে টাকা পাওনা রয়েছেন বলে দাবি করেন, যা দানা মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী সঠিক নয়।
দানা মিয়ার দাবি, স্থানীয় মুরুব্বি ও সালিশ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৭৫ হাজার টাকা জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে উপস্থিত সালিশ ব্যক্তিদের স্বাক্ষরের মাধ্যমে আম্বিয়া বেগমকে দেওয়া হয় এবং বিরোধের সমাধান করা হয়।
তিনি আরও বলেন, সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্মাণকাজ শুরু করলে আম্বিয়া বেগম সেখানে বাধা দেন এবং তার মিস্ত্রি, স্ত্রী ও সন্তানদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। একপর্যায়ে তার স্ত্রী প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও বাঁশের ফাটা ছড়ি নিয়ে টানাটানি শুরু হয়। এ সময় আম্বিয়া বেগমের হাত থেকে বাঁশের ছড়ি চলে এসে তার হাতে আঘাত লাগে এবং রক্ত বের হয় বলে দাবি করেন দানা মিয়া।
এদিকে স্থানীয় সালিশ ব্যক্তিত্বরা জানান, প্রায় এক মাস আগে উভয় পক্ষের বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সালিশে আম্বিয়া বেগমকে ৭৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলেও তারা জানান। তবে সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আম্বিয়া বেগমের একটি বারান্দা সরিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও সেটি তিনি সরিয়ে নেননি বলে দাবি করেন তারা। এ নিয়ে পরবর্তীতে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
ঘটনার বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে জমির কাগজপত্র, সালিশের নথি এবং ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিয়ে যেন আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং উভয় পক্ষের অধিকার ও আইনগত অবস্থান বিবেচনা করে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।