
প্রায় ৩০ বছর পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজার কার্যক্রম শুরু, মা ও শিশু সুস্থ
কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো সফলভাবে সিজারিয়ান অপারেশন (সিজার) সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয় চিকিৎসকদের সমন্বয়ে পরিচালিত এ অপারেশনের মাধ্যমে ৩ কেজি ওজনের একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে সিজার অপারেশন শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল বাশার বাদশার স্ত্রী ডলি বেগমের সিজার অপারেশনটি সম্পন্ন হয়। দুপুর ১২টায় তাঁকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয় এবং সাড়ে ১২টার দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।
দীর্ঘদিন ধরে জনবলসংকট ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজার অপারেশন করা সম্ভব হয়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং সার্জন ডা. আরিফুর রহমান নয়নের উদ্যোগে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টাফ নার্সদের গাইনি ও সার্জিক্যাল বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার প্রথমবারের মতো সিজার অপারেশন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলো।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরিফুর রহমান নয়ন বলেন, “দুপুর ১২টায় রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয় এবং সাড়ে ১২টায় সিজারের মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমাদের নিজস্ব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়েই এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে, বাইরে থেকে কোনো সার্জন বা চিকিৎসক আনতে হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, অনেকেই ভয় বা সংশয়ের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজার করাতে চান না। তবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এখানে সিজার অপারেশনের সুযোগ থাকায় রোগীদের সিলেটে ছুটে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে। যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীরা এ সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
রোগীর স্বজনেরা জানান, অপারেশনের পর মা ও শিশু দুজনই সুস্থ রয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, সিলেটে গিয়ে সিজার করাতে হলে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারত। তুলনামূলক কম খরচে সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ সেবা পাওয়ায় তাঁরা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সিজার অপারেশনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও সার্জন ডা. আরিফুর রহমান নয়ন, সহকারী সার্জন ডা. একরামুল হক ও ডা. সাব্বির মুনতাকা পরাগ, অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ডা. ফাতেহা রেজওয়ানা এবং সেবিকাদের মধ্যে লোপা আক্তার, ঝুমা রানী দাস ও সুব্রতি সিনহা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে কোম্পানীগঞ্জের সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বাড়বে এবং জরুরি প্রসূতি সেবায় ভোগান্তি কমবে।