নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত প্রতিটি ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধ’ ছিল একটি সুপরিকল্পিত এবং কমন ডিজাইনের অংশ। এসব ঘটনাকে ‘সিস্টেমেটিক’ বা ‘ওয়াইড স্প্রেড অ্যাটাক’ (সুসংগঠিত আক্রমণ) হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, সারা দেশে হওয়া সকল ক্রসফায়ারের মামলার নথি সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ, ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ক্রসফায়ার ও ১/১১-এর বিচার প্রসঙ্গে
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “আগে যত ক্রসফায়ার হয়েছে সবগুলোই তৎকালীন সরকার একটি কমন ডিজাইনে করেছে। এগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতাভুক্ত। আমরা সারা দেশের এসব মামলার নথি সংগ্রহ করছি। ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত মামলাগুলো বাছাই করে বিচারের আওতায় আনা হবে।”
এ সময় তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ১/১১-এর সময় ঘটে যাওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধগুলোও যদি এই ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত হয়, তবে সেগুলোও তদন্ত করে বিচারের সম্মুখীন করা হবে। কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে ট্রাইব্যুনাল স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত করবে।
৫ আগস্ট পরবর্তী মামলা ও ‘পিক অ্যান্ড চুজ’
৫ আগস্টের পরবর্তী মামলাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে বিভিন্ন থানায় ও আদালতে অসংখ্য মামলা হচ্ছে। আমরা মনে করি, এসব মামলার তদন্ত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা কর্তৃক হওয়া বাঞ্ছনীয়। কারণ, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ (বেছে বেছে হয়রানি) ঘটছে। দেখা যাচ্ছে, অনেক প্রকৃত দোষী ব্যক্তি পুলিশের বিশেষ রিপোর্টে পার পেয়ে যাচ্ছে, আবার অনেক নিরপরাধ মানুষ জেল খাটছে।”
মামলা বাণিজ্য রুখতে কঠোর হুঁশিয়ারি
সারা দেশের মামলার তথ্য তলব করার কথা জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “ইতিমধ্যেই ৫-৭ শ মামলার নথি আমাদের হাতে এসেছে। আশা করছি দু-একদিনের মধ্যে সব মামলার কপি চলে আসবে। আমরা এগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করব যাতে কোনো বিশেষ মহল ‘মামলা বাণিজ্য’ করতে না পারে।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা মামলা বাণিজ্য করছে বা কাউকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে, তদন্তে তা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।