১লা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৩ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ক্রসফায়ার ছিল তৎকালীন সরকারের ‘কমন ডিজাইন’, প্রতিটি ঘটনার বিচার হবে: চিফ প্রসিকিউটর

admin
প্রকাশিত ৩১ মার্চ, মঙ্গলবার, ২০২৬ ২২:৪১:২২
ক্রসফায়ার ছিল তৎকালীন সরকারের ‘কমন ডিজাইন’, প্রতিটি ঘটনার বিচার হবে: চিফ প্রসিকিউটর

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত প্রতিটি ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধ’ ছিল একটি সুপরিকল্পিত এবং ‘কমন ডিজাইনের’ অংশ। এগুলোকে ‘সিস্টেমেটিক’ অথবা ‘ওয়াইড স্প্রেড অ্যাটাক’ (সুসংগঠিত আক্রমণ) হিসেবে অভিহিত করে তিনি জানান, সারা দেশের এসব ঘটনার মামলার নথি সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে।

Manual7 Ad Code

আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ, ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

Manual5 Ad Code

ক্রসফায়ার ও ১/১১-এর তদন্ত প্রসঙ্গে

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “আগে যত ক্রসফায়ার হয়েছে সবগুলোই তৎকালীন সরকার একটি নির্দিষ্ট ছকে করেছে। আমরা সারা দেশের এসব মামলার নথি সংগ্রহ করছি। ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত মামলাগুলো বাছাই করে বিচারের আওতায় আনা হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ১/১১-এর সময় ঘটে যাওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধগুলোও যদি এই ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত হয়, তবে সেগুলোও তদন্তের আওতায় আসবে। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে ট্রাইব্যুনাল স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত করবে এবং জড়িতদের বিচারের সম্মুখীন করবে।

৫ আগস্ট পরবর্তী মামলা ও ‘পিক অ্যান্ড চুজ’

৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে দায়ের হওয়া মামলাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমিনুল ইসলাম বলেন:

Manual3 Ad Code

“বর্তমানে বিভিন্ন থানায় ও আদালতে অসংখ্য মামলা হচ্ছে। আমরা মনে করি, এসব মামলার তদন্ত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা কর্তৃক হওয়া বাঞ্ছনীয়। কারণ, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ (বেছে বেছে হয়রানি) ঘটছে। দেখা যাচ্ছে, অনেক প্রকৃত দোষী ব্যক্তি বিশেষ রিপোর্টে পার পেয়ে যাচ্ছে, আবার অনেক নিরপরাধ মানুষ জেল খাটছে।”

মামলা বাণিজ্য রুখতে কঠোর হুঁশিয়ারি

সারা দেশের মামলার তথ্য তলব করার কথা জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “ইতিমধ্যেই ৫-৭ শ মামলার নথি আমাদের হাতে এসেছে। আশা করছি দু-একদিনের মধ্যে সারা দেশের সব মামলার কপি চলে আসবে। আমরা এগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করব যাতে কোনো বিশেষ মহল ‘মামলা বাণিজ্য’ করতে না পারে।”

তিনি স্পষ্টভাবে জানান, যারা মামলা বাণিজ্য করছে বা কাউকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে, তদন্তে এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে দেশের প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কঠোর সুপারিশ করা হবে।

Manual2 Ad Code