নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা তারিখ: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ইশতেহারে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিকদের কল্যাণে ‘জাতীয় সাংবাদিক অবসর কল্যাণ বোর্ড’ গঠনের মতো বেশ কিছু যুগান্তকারী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
বিএনপি তাদের ইশতেহারে নির্ভীক ও পক্ষপাতহীন সাংবাদিকতার ওপর জোর দিয়ে জানিয়েছে, গঠনমূলক ও বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা রাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক। ইশতেহারে গণমাধ্যম বিষয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো:
-
নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: সব ধরনের গণমাধ্যমকর্মী ও অফিসের নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। গণমাধ্যমের ওপর যেকোনো হামলা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
-
কালো আইন সংশোধন: সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনি হয়রানি বন্ধে বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পুনর্নিরীক্ষণ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
-
মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার: রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হবে।
সাংবাদিকদের কল্যাণ ও সুরক্ষা
সাংবাদিকদের পেশাগত স্বীকৃতি ও সামাজিক নিরাপত্তা দিতে বিএনপি কয়েকটি বিশেষ পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে:
-
অবসর কল্যাণ বোর্ড: সাংবাদিকদের জন্য একটি জাতীয় অবসর কল্যাণ বোর্ড গঠন করা হবে, যার মাধ্যমে অবসরকালীন নিরাপত্তা ও বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
-
নির্যাতন রোধে বিশেষ সেল: সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যার বিচার নিশ্চিতে এবং হয়রানি বন্ধে একটি ‘বিশেষ সেল’ গঠন করা হবে।
-
বিজ্ঞাপনে পক্ষপাত বন্ধ: সরকারি বিজ্ঞাপন বরাদ্দে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অবসান ঘটানো হবে।
গুজব প্রতিরোধ ও রেগুলেটরি কাঠামো
ইশতেহারে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী মিডিয়া রেগুলেটরি কাঠামো গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এর কাজ হবে:
-
ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে গুজব ও ভুয়া খবর প্রতিরোধ করা।
-
ঘৃণামূলক বক্তব্য ও অপপ্রচার রোধ করা।
-
নাগরিকদের জন্য অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থা চালু করা এবং ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি বাধ্যতামূলক করা।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাংবাদিকেরা গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এবং তাঁদের কাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।