
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট | ২২ জানুয়ারি, ২০২৬
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের ৪ কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে ২ কোটি পরিবারের প্রধান নারীর হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে সিলেট নগরীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘দ্য প্ল্যান, ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তরুণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, কার্ডটি মূলত পরিবারের নারী প্রধানের নামে দেওয়া হবে যাতে পরিবারে তাঁর সম্মান ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হয়। তিনি জানান:
কার্ডধারীরা মাসিক ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা নগদ অর্থ পাবেন।
প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী (অ্যাসেনশিয়াল ফুড আইটেম) সরবরাহ করা হবে।
এই অর্থ স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ছোট ছোট বিনিয়োগে ব্যয় করার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, “এই ব্যবস্থায় দুই কোটি পরিবারকে নিয়ে আসতে পারলে অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে চলমান ১৩৮টি প্রকল্পের রিসোর্স এক জায়গায় এনে এই বড় উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।”
চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে পল্লী চিকিৎসার আদলে ‘হেলথ কেয়ার’ ব্যবস্থার প্রচলন করা হবে, যা তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবে।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে তিনি পরিবেশ ও শব্দদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আগে কাকের ডাকে ঘুম ভাঙত, এখন যানবাহনের হর্নের শব্দে ঘুম ভাঙে।” তবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ঢাকার চেয়ে সিলেট শহরকে তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তারেক রহমান সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। উপস্থিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের নানা সমস্যার কথা লিখিত আকারেও জমা দেন। এই মতবিনিময় সভার মাধ্যমে আগামী ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তরুণ ভোটারদের কাছে দলের ভিশন পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
বক্তব্যের বিশেষ হাইলাইটস:
“একজন কৃষকের স্ত্রী যেমন এই কার্ড পাবেন, তেমনি ভ্যানচালকের স্ত্রী বা ইমাম সাহেবের স্ত্রীও পাবেন। এমনকি ইউএনও সাহেবের স্ত্রীর জন্যও সুযোগ থাকবে, যদিও তিনি হয়তো তা নেবেন না। অর্থাৎ, সুযোগটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।”