
সংসদ সংবাদ দাতা | ঢাকা:
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা, জুলাই আন্দোলনে নারীদের অবদান এবং দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল, ২০২৬) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ক্ষমতার ভারসাম্য আনার দীর্ঘদিনের আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে রুমিন ফারহানা বলেন, সরকারি ও বিরোধী দলসহ চব্বিশের অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়েও বারবার ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা বলা হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন:
"প্রত্যাশা ছিল এবার রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদিত ভাষণের বাইরে গিয়ে নিজের মতো করে বক্তব্য দিতে পারবেন। কিন্তু এবারও তাঁকে নির্ধারিত ভাষণই পড়তে হলো। সামান্য এই স্বাধীনতা যদি আমরা দিতে না পারি, তবে কোন ভারসাম্যের কথা বলছি?"
এ সময় তিনি বিএনপির মনোনয়ন না পাওয়া প্রসঙ্গে বলেন, "মনোনয়ন না পাওয়ার কারণেই দেশের লাখো মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা বুঝতে পেরেছি।"
জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারিতে নারীদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আন্দোলনের এক বছর না যেতেই সেই নারীরা কোথায় হারিয়ে গেল? সংসদে উপস্থিত নারী সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন:
"মিছিলের সামনে, টিয়ার শেল ও লাঠিপেটার মুখে নারীকে ঢাল হিসেবে প্রয়োজন হয়। কিন্তু সব ঠিক হয়ে গেলে সেই নারীই হয়ে যায় ‘ট্রলের বস্তু’। নারীর পোশাক, চেহারা ও হাসি নিয়ে হাসাহাসি করা হয়। ৫২ শতাংশ মানুষকে পেছনে ফেলে নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।"
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, উচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতির কারণে বাংলাদেশ এখন বিশ্বব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ 'লাল তালিকায়'। তিনি উল্লেখ করেন:
বৈদেশিক ঋণ: বর্তমানে ঋণের পরিমাণ ১১৩.৫১ বিলিয়ন ডলার।
টাকা পাচার: গত ১৫ বছরে প্রায় ২৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার পাচার হয়েছে।
খেলাপি ঋণ: ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ কোটি টাকা।
তিনি সতর্ক করে বলেন, পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনা এবং মিথ্যা ইনভয়েসিং বন্ধ করা না গেলে কোনো অর্থনৈতিক পরিকল্পনাই কাজে আসবে না।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি দেশের অলিগার্কিক (গুটি কয়েক মানুষের হাতে সম্পদ কুক্ষিগত থাকা) কাঠামো ভেঙে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি তৈরির আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, "ভবিষ্যতে সালমানের (সাবেক উপদেষ্টা) জায়গায় যেন সাইফুর এসে না বসে; বরং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।"