নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ঢাকা: বিএনপি সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের যোগদান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই নিয়োগের মাধ্যমেই নির্বাচনের পেছনের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা কারসাজি জাতির সামনে উন্মোচিত হয়েছে।
নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
মঙ্গলবার দুপুরে সংসদ ভবন এলাকায় সাংবাদিকদের নাহিদ ইসলাম বলেন, “নির্বাচনের আগে আমরা ছাত্র উপদেষ্টারা নিরপেক্ষতার স্বার্থে পদত্যাগ করেছিলাম। তখন আমাদের ওপর দায় চাপানো হয়েছিল যে আমরা একটি দলের সাথে যুক্ত। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান যখন বিএনপির মন্ত্রিসভায় যোগ দেন, তখন প্রমাণ হয় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারে থেকেই একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ হয়ে কাজ করেছেন।”
নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ
এনসিপি প্রধান আরও দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে ফলাফল কারচুপি করে অনেক আসন হারিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি দল দুই-তৃতীয়াংশ আসন দখল করেছে। তিনি বলেন, “আজ খলিলুর রহমানের সরকারে যোগ দেওয়ার মাধ্যমেই সেই নীল নকশা পরিষ্কার হলো।”
সংবিধান সংস্কার ও শপথ বর্জন
বিএনপির পক্ষ থেকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ না নেওয়ার বিষয়টিকে ‘গণরায়ের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো’ বলে মন্তব্য করেছেন নাহিদ ইসলাম। এই ঘটনার প্রতিবাদে এনসিপি প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠান বয়কট করে।
আসিফ মাহমুদের কড়া প্রতিক্রিয়া
দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে জানান, সাবেক উপদেষ্টা হিসেবে আমন্ত্রিত থাকলেও তিনি শপথ অনুষ্ঠানে যাননি। তিনি উল্লেখ করেন, “সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনে অস্বীকৃতি জানিয়ে শপথ নেওয়া মূলত হাসিনার সংবিধানকেই অক্ষুণ্ন রাখার শামিল। এটি গণভোটের জনরায়ের সঙ্গে প্রতারণা।”
ঘটনার মূলবিন্দু:
-
অভিযোগ: সাবেক উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
-
দাবি: এনসিপির মতে, নির্বাচনের ফলাফল ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে।
-
প্রতিবাদ: সংবিধান সংস্কার নিয়ে অনীহার কারণে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বয়কট করেছে এনসিপি ও এর নেতারা।