
এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া, সিলেট ব্যুরো
সিলেট নগরীর স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘দি খাজাঞ্চি বাড়ি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এ প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা, গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন এবং শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি ভেঙে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। এই অচলাবস্থা নিরসনে ও প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য রক্ষায় সিলেট জেলা প্রশাসনের প্রতি অভিযোগের আঙুল তুলে ৭ দফা দাবি জানিয়েছেন সচেতন অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীবৃন্দ।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সচেতন অভিভাবকদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অ্যাডভোকেট কাজী সেবা।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৮৬ সালে তৎকালীন সিলেটের ডেপুটি কমিশনার মো. ফয়জুল্লাহর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘকাল সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হলেও গত কয়েক বছরে এর শৃঙ্খলা ধসে পড়েছে। অভিযোগের মূল বিষয়গুলো হলো:
প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ: একাডেমিক পদে (প্রিন্সিপাল ইনচার্জ) কোনো শিক্ষাবিদের পরিবর্তে বারবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়োগ দেওয়া।
অগণতান্ত্রিক পরিচালনা: ট্রাস্টি বোর্ডে অভিভাবক প্রতিনিধি না থাকা এবং গঠনতন্ত্র তোয়াক্কা না করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
শিক্ষক সংকট: যোগ্য ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাব এবং দক্ষ শিক্ষকদের কৌশলে পদত্যাগে বাধ্য করা।
অস্বচ্ছতা: প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব সাধারণ অভিভাবকদের কাছে গোপন রাখা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সংকট উত্তরণে ৭টি নির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়:
প্রিন্সিপাল ইনচার্জ পদ থেকে অবিলম্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রত্যাহার করতে হবে।
দুজন অভিভাবক প্রতিনিধিসহ একটি পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করতে হবে।
বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগকারী বিতর্কিত শিক্ষকদের পুনর্নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে।
শূন্য পদগুলোতে অবিলম্বে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।
পাঠদান কার্যক্রমে নিয়মিত ও কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের হিসাব অভিভাবকদের অবহিত করতে হবে।
স্কুল পরিচালনার জন্য একজন দক্ষ ও পৃথক প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এডমিন) নিয়োগ দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রিন্সিপাল ইনচার্জ মোহাম্মদ হোসেন ও ভাইস-প্রিন্সিপাল তাহিয়া সিদ্দিকা পদত্যাগ করেন। এরপর রাজকুমার সিংহকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এডিসি (শিক্ষা) নুরের জামান চৌধুরীর মৌখিক নির্দেশে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। পরবর্তীতে মুজিবুর রহমানকে সরিয়ে জেলা প্রশাসক মো. সরোয়ার আলম প্রথমে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট টিপু সুলতান এবং বর্তমানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হককে প্রিন্সিপাল ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব দেন, যা শিক্ষা কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে বলে দাবি অভিভাবকদের।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শফিকুর রহমান, কবি ড. এম এ মোশতাক, ব্যারিস্টার ফয়েজ আহমদ, অ্যাডভোকেট ইরশাদুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহমদ, ব্যাংকার এম এ ওয়াদুদ, শিক্ষাবিদ মোস্তফা নূরুল হাসান চৌধুরী এবং অভিভাবক প্রতিনিধি ফয়সাল আহমদ, অ্যাডভোকেট ওয়াহিদুর রহমান চৌধুরীসহ আরও অনেকে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সিলেটের এই প্রাচীন ইংরেজি মাধ্যম প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। দ্রুত দাবি পূরণ না হলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। তারা এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।