আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৩ মার্চ, ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত থামার বদলে উল্টো আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রভাবশালী রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) হামলা জোরদারের হুমকি দেওয়ায় আগামী ১-২ সপ্তাহের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
ইন্টারসেপ্টর সংকট: ফুরিয়ে আসছে রক্ষাকবচ
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যদি বর্তমান গতিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রাখে, তবে সপ্তাহখানেকের মধ্যেই মিত্র দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense System) অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মিডলইস্ট ইনস্টিটিউটের ফেলো জিন-লুপ সামান সতর্ক করে বলেন:
“ইরানের হামলার বর্তমান তীব্রতা বিবেচনায় নিলে, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা কাতার তাদের বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহের বেশি নির্ভর করতে পারবে না।”
ক্ষয়ক্ষতি ও প্রতিরোধের পরিসংখ্যান
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইরান থেকে আসা হামলার একটি খতিয়ান তুলে ধরেছে:
| দেশ |
শনাক্তকৃত ক্ষেপণাস্ত্র |
প্রতিহত (ক্ষেপণাস্ত্র) |
শনাক্তকৃত ড্রোন |
ভূপাতিত (ড্রোন) |
| সংযুক্ত আরব আমিরাত |
১৮২টি |
১৬৯টি |
৬৮৯টি |
৬৪৫টি |
| কাতার |
১০৪টি |
১০১টি |
৩৯টি |
২৪টি |
পরিসংখ্যান অনুযায়ী সফলতার হার বেশি হলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অসম্ভব। কারণ, প্রতিটি ইরানি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র আটকাতে যে পরিমাণ ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর প্রয়োজন, তার মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার ও পাল্টাপাল্টি হামলার শঙ্কা
‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর প্রতিরক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শশাঙ্ক জোশির মতে, ইরানের কাছে বিভিন্ন পাল্লার প্রায় ২,৫০০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিপুল সংখ্যক শাহেদ ড্রোন রয়েছে। এই বিপুল সমরাস্ত্রের বিপরীতে উপসাগরীয় দেশগুলোর অত্যাধুনিক ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি দেখা দেওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো হাসান আলহাসান এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়লে উপসাগরীয় দেশগুলো আর কেবল ‘ডিফেন্সিভ’ বা রক্ষণাত্মক থাকবে না। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় তারা তাদের শক্তিশালী বিমানবাহিনী ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে হামলা চালাতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যে একটি সর্বাত্মক মহাযুদ্ধের (Full-scale War) সূচনা করবে।
উপসংহার
আপাতত সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অটুট দাবি করলেও পর্দার আড়ালে তারা দ্রুত ইন্টারসেপ্টর সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে খামেনি-পরবর্তী আইআরজিসি যেভাবে মরিয়া হয়ে উঠেছে, তাতে আগামী কয়েক দিন পুরো অঞ্চলের জন্য চরম অগ্নিপরীক্ষার।