
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৩ মার্চ, ২০২৬
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে, তখন তেহরানের সিংহাসনের দখল নিতে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারক মহলে শুরু হয়েছে এক তীব্র ‘পাওয়ার গেম’। কয়েক দশক ধরে নির্বাসনে থাকা দুটি গোষ্ঠী—সাবেক শাহ-পুত্র রেজা পাহলভি এবং বিতর্কিত সংগঠন মোজাহেদিন-ই-খালক (এমইকে) এখন হোয়াইট হাউসের চূড়ান্ত আশীর্বাদ পেতে মরিয়া।
একসময় মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ‘সন্ত্রাসবাদী’ তালিকায় থাকা মোজাহেদিন-ই-খালক (এমইকে) গত এক দশকে নিজেদের অবস্থান আমূল বদলে ফেলেছে। ২০১২ সালে সেই তকমা মোছার পর থেকে তারা ওয়াশিংটনের ভেতরে শক্তিশালী লবিং শুরু করে। রেকর্ড অনুযায়ী, সাবেক মার্কিন সিনেটর রবার্ট টরিসেলির লবিং ফার্মকে তারা এ পর্যন্ত ২৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ প্রদান করেছে।
বর্তমানে এমইকে নেত্রী মারিয়াম রাজভি একটি ধর্মনিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিচ্ছেন ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর মতে, ইরানের এই গণতান্ত্রিক বিরোধী দল এখন নেতৃত্ব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
এমইকের বার্ষিক ‘ফ্রি ইরান’ কনফারেন্সগুলোতে যোগ দিতে মার্কিন রাজনীতিকদের বিশাল অঙ্কের সম্মানী দেওয়ার বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী:
মাইক পেন্স: ২০২১ সালের পর বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে ৪ লাখ ডলারের বেশি পেয়েছেন।
জন বোল্টন: ২০১৭ সালের একটি সমাবেশ থেকে পেয়েছিলেন ৪০ হাজার ডলার।
রুডি জিউলিয়ানি: অর্থের বিনিময়ে সমর্থনের অভিযোগ থাকলেও তিনি একে ‘মহৎ উদ্দেশ্য’ বলে দাবি করেছেন।
বর্তমানে এমইকের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শাহের পুত্র রেজা পাহলভি। পাহলভি নিজেকে ইরানের একমাত্র ঐক্যবদ্ধ শক্তি হিসেবে প্রচার করছেন এবং ফক্স নিউজ ও সিবিএসের মতো গণমাধ্যমে নিয়মিত উপস্থিত হয়ে মার্কিন সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে, এমইকের রাজনৈতিক শাখা এনসিআরআই-এর প্রতিনিধি আলিরেজা জাফরজাদেহ জানিয়েছেন, তারা আমেরিকার কাছে অর্থ বা সৈন্য চান না; বরং তাদের ‘বিপ্লবী ইউনিটগুলোকে’ স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন যাতে তারা আইআরজিসি (IRGC)-কে মোকাবিলা করে বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে পারে।
রুডি জিউলিয়ানির মতে, খামেনির পতনে পাহলভি এবং এমইকে—উভয় পক্ষই খুশি। তবে খামেনিহীন ইরানে কে শেষ হাসি হাসবেন—পাহলভির রাজতন্ত্র নাকি এমইকের প্রস্তাবিত ছায়া সরকার—তা এখন নির্ভর করছে হোয়াইট হাউসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। ৪৭ বছরের দুঃস্বপ্নের পর ইরানের ভাগ্য শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাবে, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের অন্দরে চলছে এক স্নায়ুযুদ্ধ।