অর্থনৈতিক প্রতিবেদক | ০২ মার্চ, ২০২৬
ব্যাপক হারে ঋণ পুনঃতফসিলের (Rescheduling) সুযোগে ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বড় অংকে কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। তবে ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি খেলাপি আদায়ের সাফল্য নয়, বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া নীতিগত ছাড়ের ফল।
খেলাপি ঋণের পরিসংখ্যান একনজরে
| সময়কাল (২০২৫) |
খেলাপি ঋণের পরিমাণ (কোটি টাকা) |
মোট ঋণের শতাংশ |
| সেপ্টেম্বর শেষে |
৬,৪৪,৫১৫.২৫ |
৩৫.৭৩% |
| ডিসেম্বর শেষে |
৫,৫৭,২১৬.৯২ |
৩০.৬০% |
| পরিবর্তন |
(-) ৮৭,২৯৮.৩৩ |
(-) ৫.১৩% |
প্রভিশন ঘাটতি ও আমানতকারীদের ঝুঁকি
খেলাপি ঋণের অংক কাগজে-কলমে কমলেও ব্যাংকগুলোর আর্থিক ঝুঁকি কমেনি। বর্তমানে খেলাপি ঋণের বিপরীতে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকার প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি থাকলেও, প্রভিশন ঘাটতি এখনো ১ লাখ ৯১ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশাল ঘাটতি ব্যাংকগুলোর মূলধন ভিত্তি দুর্বল করে দিচ্ছে এবং সাধারণ আমানতকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আড়ালে থাকা তথ্যের প্রকাশ
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিদেশি অডিট ফার্মের নিরীক্ষায় দেখা যায়, আগে প্রায় ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ আড়াল করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে শুরু করে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যা ছিল ২ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা, পুনর্মূল্যায়নের পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তা রেকর্ড ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায়।
বিশ্লেষকের মত: কঠোর নজরদারির বিকল্প নেই
চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো ও অর্থনীতিবিদ এম হেলাল আহমেদ জনি এ প্রসঙ্গে বলেন:
“বিগত সরকারের আমলে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ আড়ালে রাখা হয়েছিল। বর্তমানে নীতিগত সুবিধার কারণে খেলাপি ঋণ কম দেখাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক যদি কঠোর নজরদারি ও শৃঙ্খলা আরোপ না করে, তবে ভবিষ্যতে এই অংক আবারও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে এখন অনেক বেশি সতর্ক ও যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
উপসংহার
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সহায়তায় অনেক গ্রাহক তাদের শ্রেণিকৃত ঋণ পুনঃতফসিল করায় খেলাপি তালিকা থেকে বেরিয়ে গেছেন। তবে ব্যাংক খাতের প্রকৃত স্বাস্থ্য ফেরাতে কেবল পুনঃতফসিল নয়, বরং খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনি কঠোরতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।