২৩শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

গঙ্গাচড়ায় ৫ দিন ধরে পেট্রল-অকটেন উধাও: ৪ পাম্পই বন্ধ, খোলাবাজারে লিটার ২৫০ টাকা!

admin
প্রকাশিত ২৩ মার্চ, সোমবার, ২০২৬ ১২:১৬:১৭
গঙ্গাচড়ায় ৫ দিন ধরে পেট্রল-অকটেন উধাও: ৪ পাম্পই বন্ধ, খোলাবাজারে লিটার ২৫০ টাকা!

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | রংপুর

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তীব্র জ্বালানি সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। গত পাঁচ দিন ধরে উপজেলার চারটি ফিলিং স্টেশনেই পেট্রল ও অকটেন সরবরাহ না থাকায় পাম্পগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। ঈদুল ফিতরের আনন্দ উপভোগ করতে আসা পর্যটক ও স্থানীয় যানবাহন চালকেরা এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পাম্পে তেল না থাকলেও খোলাবাজারে চড়া দামে পেট্রল বিক্রি হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ও সিন্ডিকেটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Manual1 Ad Code

পাম্পে তালা, ভোগান্তিতে চালকেরা

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার চারটি পাম্পের সামনেই দড়ি টেনে এবং প্রতিবন্ধক দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ঢাকা থেকে ঈদে বাড়ি আসা আসাদুজ্জামান জানান, “পরিবার নিয়ে ঘোরার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু কোথাও পেট্রল পাচ্ছি না।” নাতনিকে আনতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে তেল না পেয়ে বিপাকে পড়া আজিবর রহমান বলেন, “ঈদের সময় এমন অবস্থা মেনে নেওয়া যায় না।”

খোলাবাজারে আকাশচুম্বী দাম

পাম্পগুলোতে তেল না থাকার সুযোগে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রতি লিটার পেট্রল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী চালক আব্দুল খালেক প্রশ্ন তোলেন, “পাম্পে তেল নেই, কিন্তু বাজারে তেল আসে কোথা থেকে? এটা নিশ্চিত কোনো সিন্ডিকেটের কাজ।”

Manual6 Ad Code

পাম্প মালিকদের বক্তব্য

পাম্প মালিকেরা জানিয়েছেন, ডিপো থেকে গত পাঁচ দিনে শুধু ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে, কিন্তু পেট্রল ও অকটেন পাওয়া যায়নি। তাদের দাবি:

  • শুধুমাত্র ডিজেল দিয়ে পাম্প চালু রাখলে মোটরসাইকেল চালকদের চাপে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

    Manual2 Ad Code

  • গ্রাহকদের সামাল দিতে না পেরে বাধ্য হয়ে পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে।

    Manual5 Ad Code

  • বিষয়টি মৌখিকভাবে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

প্রশাসনের অবস্থান

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানান, প্রশাসনও ডিপোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তিনি বলেন, “পাম্প মালিকেরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানালে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতাম। তবে খোলাবাজারে অবৈধভাবে ও চড়া দামে পেট্রল বিক্রির তথ্য পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


নোট: ঈদের ছুটির এই সময়ে জ্বালানি সংকট স্থানীয় যাতায়াত ও কৃষিকাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদারকি না করলে খোলাবাজারের সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।