
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর:
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের মন্থনা বাজারে সরকারি সড়কের প্রায় ৪০ মিটার অংশের ইট খুলে ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়ার সময় এলাকাবাসীর বাধার মুখে কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল, ২০২৬) সকালে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো প্রকার প্রকাশ্য টেন্ডার ছাড়াই বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল হুদা এই ইটগুলো অপসারণের চেষ্টা করেছেন।
ঘটনার বিবরণ ও এলাকাবাসীর বাধা
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে একদল শ্রমিক ট্রাক নিয়ে এসে রাস্তার ইট তুলতে শুরু করেন। ব্যবসায়ীরা কারণ জানতে চাইলে শ্রমিকেরা দাবি করেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশে ইটগুলো খুলে ইউনিয়ন পরিষদে নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ফোন দেন। ইউএনও ঘটনাটি জানেন না বলে জানালে বিক্ষুব্ধ জনতা ও ব্যবসায়ীরা মিলে ট্রাকটি আটকে দেন। উত্তেজনার মুখে শ্রমিকেরা ট্রাক থেকে ইট নামিয়ে রেখে চলে যেতে বাধ্য হন।
হাটের ইজারাদার রুবেল মিয়া ও দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মারুফ মিয়া জানান, চেয়ারম্যান একেক সময় একেক গন্তব্যের কথা বলেছেন—কখনো উপজেলা পরিষদ, আবার কখনো মসজিদের নাম নিয়েছেন। এমনকি কথিত টেন্ডারের যে কাগজ দেখানো হয়েছে, সেটিও তাদের কাছে সঠিক মনে হয়নি।
এলজিইডির ভাষ্য
এলজিইডির হিসাব অনুযায়ী, ওই সড়ক থেকে উদ্ধারযোগ্য পুরোনো ইটের আনুমানিক মূল্য ৩৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) শাহ মোহাম্মদ ওবায়দুল রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন:
“আমাদের দপ্তর থেকে রাস্তার ইট বিক্রির জন্য কোনো টেন্ডার দেওয়া হয়নি। ওই স্থানে শুধু নতুন করে সিসি ঢালাই কাজের টেন্ডার হয়েছে।”
চেয়ারম্যানের পাল্টা দাবি
অভিযোগের বিষয়ে বড়বিল ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল হুদা দাবি করেন, তিন মাস আগেই নিয়ম মেনে নোটিশ টাঙিয়ে নিলাম দেওয়া হয়েছে এবং টাকাও জমা হয়েছে। তিনি বলেন:
“নিলামে যারা ইট কিনেছে, তারাই লোক দিয়ে ইট সরাচ্ছিল। বাজার থেকে কিছু লোক আমার কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেছিল, তা না দেওয়ায় তারা এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে।”
প্রমাণ হিসেবে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে ইউনিয়ন পরিষদের নোটিশ ও একটি ব্যাংক রশিদের ছবি সরবরাহ করেন।
প্রশাসনের অবস্থান
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে সরকারি সম্পদ সরানোর সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে মন্থনা বাজার এলাকায় এ নিয়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং রাস্তার ইটগুলো খোলা অবস্থায় সেখানেই পড়ে রয়েছে।