নিজস্ব প্রতিবেদক, লক্ষ্মীপুর | ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার পর নবনির্বাচিতদের জন্য আলাদা করে শপথ নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানান, যেহেতু সংসদ নির্বাচন ও পরবর্তী শপথ সম্পন্ন হয়েছে এবং গণভোটে জনরায় প্রতিফলিত হয়েছে, তাই এটি সংসদীয় প্রক্রিয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে।
শনিবার সকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে লক্ষ্মীপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোট ও সংসদীয় প্রক্রিয়া
মন্ত্রী বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে, সংসদের শপথ হয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হয়েছে। খুব স্বাভাবিক কারণে পার্লামেন্টে বিলটি উত্থাপিত হবে এবং আলোচনা হবে। তাই ‘হ্যাঁ’-এর জন্য আলাদা শপথের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। এটি জাতীয় সংসদে বসামাত্র কার্যকরী হবে এবং এটিই হবে জুলাই জাতীয় সনদ।”
তিনি আরও জানান, গণভোটে প্রাপ্ত ‘না’ ভোট এবং বিভিন্ন বিষয়ে আসা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হবে। আইনবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী জনসাধারণের দেওয়া এই সিদ্ধান্ত নীতিনির্ধারণী অবস্থান থেকে সংসদে কার্যকর করা হবে।
বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান
বিরোধী দলকে গঠনমূলক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এ্যানি বলেন, “দলমত ভিন্ন থাকতে পারে, কিন্তু সব ইস্যুতে বিরোধিতা করলে দেশ গড়া সম্ভব নয়। সরকারকে আন্তরিকতার সাথে সহযোগিতা করার মাধ্যমেই দেশ এগিয়ে যাবে। সবাই মিলে একসাথে কাজ করাই আমাদের প্রত্যাশা হওয়া উচিত।”
‘মব’ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কঠোর সমালোচনা করে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, “মব (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) সৃষ্টি করে যারা বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তারা দেশ গড়ার ক্ষেত্রে বাধা। যারা মব সৃষ্টি করে উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতায় বাধা দেবে, তারাই দেশের শত্রু হিসেবে গণ্য হবে।”
উপস্থিতিবৃন্দ
শ্রদ্ধা নিবেদনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপী, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান, বিআরডিবির চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া, পাবলিক প্রসিকিউটর আহমদ ফেরদৌস মানিকসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।