নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ২৬ মার্চ, ২০২৬
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ‘গণভোট অধ্যাদেশ’ বাতিলের সুপারিশ করেছে আইন মন্ত্রণালয়। তবে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটিতে এই সুপারিশের তীব্র বিরোধিতা করেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। শুধু গণভোট নয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশ কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ ২০টি অধ্যাদেশ নিয়ে সরকারি দল বিএনপি ও বিরোধী দলের মধ্যে এখনো কোনো ঐকমত্য পৌঁছেনি।
বৈঠকের মূল বিতর্ক
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে আইন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, যে আদেশের ভিত্তিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেটি ছিল এখতিয়ারবহির্ভূত। তাই এটিকে স্থায়ী আইনে পরিণত করা সম্ভব নয় এবং এটি রহিত করা প্রয়োজন।
এই প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিরোধীদলীয় হুইপ ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “গণভোট মানে জনগণের রায়। কোনো আইন এখতিয়ারবহির্ভূত কি না, তা কেবল আদালতই নির্ধারণ করতে পারেন। গণভোট অস্বীকার করলে জুলাই চেতনাই থাকে না।”
অমীমাংসিত ২০টি অধ্যাদেশ
সূত্রমতে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১৩টির বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দল একমত হয়েছে। তবে বাকি ২০টি নিয়ে বিরোধ কাটেনি। বিরোধের প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো:
-
দুদক অধ্যাদেশ: জামায়াতের দাবি, সরকার সার্চ কমিটি বাদ দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে চাইছে।
-
পুলিশ কমিশন ও মানবাধিকার কমিশন: এগুলোর আগের নিয়োগ কাঠামো পরিবর্তনের সুপারিশে আপত্তি জানিয়েছে বিরোধী দল।
-
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ: এটি সংশোধনের বিষয়েও একমত হতে পারেনি কমিটি।
সরকারি দলের অবস্থান
বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন জানান, গণভোট নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা এটাকে রহিত বা রাখার—কোনো প্রস্তাবই দিইনি। আমরা চাই সংবিধানের আলোকে আলোচনা করতে, কারণ সংবিধান সবার ঊর্ধ্বে।”
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, “জুলাই সনদ আমাদের কাছে অত্যন্ত সম্মানের। তবে এর কিছু অংশ সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে কার্যকর করতে হবে। আমরা সংবিধান ও জুলাই সনদ—উভয়কেই প্রাধান্য দিচ্ছি।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, যেসব বিলে একমত হওয়া যাবে না, সেগুলো এই অধিবেশনে বাতিল হয়ে যাবে এবং প্রয়োজনে পরে নতুন বিল আকারে আসবে।
সময়সীমা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে গঠিত এই বিশেষ কমিটিকে আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আগামী ২৯ মার্চ পুনরায় বৈঠকে বসবে কমিটি। আইন অনুযায়ী, এই ১৩৩টি অধ্যাদেশ আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে আইনে পরিণত না হলে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
কমিটির বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের এমপি মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান।