‘দেশের চাবি আপনার হাতে’ স্লোগানে গণভোট নিয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে একটি লিফলেট প্রকাশ করা হয়েছে।
‘গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিলে কী পাবেন আর না ভোট দিলে কী পাবেন না’—শিরোনামের ওই লিফলেটে প্রস্তাবিত ১১টি সংস্কারের কথা তুলে ধরা হয়েছে। লিফলেটে প্রশ্ন রাখা হয়েছে—‘আপনি কি এমন বাংলাদেশ চান যেখানে…’—এর বিপরীতে এসব সংস্কারের বিষয় উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে এসব সংস্কার বাস্তবায়িত হবে, আর ‘না’ ভোট দিলে তা হবে না।
লিফলেটে উল্লিখিত সংস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে—তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দলের যৌথ ভূমিকা, সরকারের এককভাবে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা সীমিত করা, সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে গণভোট চালু, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি দায়িত্বে না থাকা, সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করতে উচ্চকক্ষ গঠন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের ক্ষমতা সীমিতকরণ এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা।
গণভোট বিষয়ে প্রচারের জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের উদ্যোগে ‘গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম’ নামে একটি সেল গঠন করা হয়েছে। এ সেলের মুখ্য সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজকে।
সেলের উদ্যোগে নগর ও শহরাঞ্চলের জনবহুল স্থানে ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল বিলবোর্ড স্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র, প্যানেল মেয়র এবং প্রশাসকদের নিয়ে একটি পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১২টি সিটি করপোরেশন ও ৩৩০টি পৌরসভার প্রশাসকেরা সশরীরে ও অনলাইনে অংশ নেন।
সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন মহানগরী এবং গুরুত্বপূর্ণ পৌর শহরের প্রবেশপথ ও জনবহুল স্থানে ডিজিটাল ও স্থির বিলবোর্ডের মাধ্যমে গণভোটের বিষয়বস্তু প্রচার করতে হবে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভোটারদের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ সময় অধ্যাপক আলী রীয়াজ আগামী সাত দিনের মধ্যে গণভোটের লোগো, নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত ব্যালটের নমুনা ও লিফলেট জনবহুল স্থানে প্রচারের আহ্বান জানান। তিনি সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে নিজ নিজ সক্ষমতার মধ্যে সর্বোচ্চ প্রচার চালানোর অনুরোধ করেন। পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সরবরাহকৃত কনটেন্ট ব্যাপকভাবে প্রচারের তাগিদ দেওয়া হয়।