
নিজস্ব প্রতিবেদক | ময়মনসিংহ
জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে আলম মিয়া (৩০) নামের এক রিকশাচালক যুবককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে উপজেলার গফরগাঁও ইউনিয়নের পড়শীপাড়া গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।
নিহত আলম মিয়া পড়শীপাড়া গ্রামের সহরুদ্দিনের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী আমান মিয়ার পরিবারের সঙ্গে আলমের পরিবারের দীর্ঘদিনের সীমানা-সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে আলম মিয়া প্রতিপক্ষ আমান মিয়ার মা আসিয়া বেগমকে মাথায় আঘাত করেন।
আসিয়া বেগম আহত হওয়ার জেরে আমান মিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আলমকে জোরপূর্বক তাঁদের বাড়িতে তুলে নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাঁর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়:
আলমের নিথর দেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে।
এক তরুণ ডান হাতে লাঠি নিয়ে আলমকে আঘাত করছে এবং অন্য হাতে মোবাইলে ভিডিও কলে থাকা কাউকে সেই দৃশ্য দেখাচ্ছে।
'মাথায় বাড়ি দিছিলে'—এই আক্রোশ উগড়ে দিয়ে বারবার আঘাত করা হচ্ছে।
নির্যাতনের একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই আলমের মৃত্যু হলে ঘাতকরা তাঁর মরদেহ বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে সন্ধ্যাবেলায় আলমের মা নাসিমা আক্তার খোঁজাখুঁজি শুরু করলে প্রতিবেশীর বাড়িতে আটকের খবর পান। শেষ পর্যন্ত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, পূর্ববিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। রাতেই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: ১. আব্দুল কাদের (৫৫) ২. মোহাম্মদ মাজাহারুল (৩০) ৩. মোহাম্মদ ইমরান ইসলাম (২৫)
আইনি অবস্থা: পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের পরিবার এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।