
নিজস্ব প্রতিবেদক, গাইবান্ধা | ১৩ মার্চ, ২০২৬
আলু তোলার ভরা মৌসুমে হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে গাইবান্ধার কৃষি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিপাতে জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের আলুর খেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে ফলন ঘরে তোলার আগমুহূর্তে পচন ধরার ভয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গতকাল বৃহস্পতিবার জেলায় ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সরেজমিনে গাইবান্ধার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, হঠাৎ বৃষ্টিতে নিচু এলাকার আলুর খেতগুলো আংশিক বা পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে আছে। কৃষকদের মতে, মাটি থেকে আলু তোলার এই সময়ে জমিতে পানি জমে থাকা মানেই আলুতে পচন ধরা। রোদ উঠে জমি দ্রুত না শুকালে পুরো মৌসুমের পরিশ্রম বৃথা যেতে পারে।
গোবিন্দগঞ্জের শাখাহার এলাকার কৃষক রায়হানুল ইসলাম বলেন:
"আমরা কয়েক দিন ধরেই আলু তুলছিলাম। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে সব ভণ্ডুল হয়ে গেল। এখন জমি শুকাতে সময় লাগবে। এর মধ্যে আবার বৃষ্টি হলে সব আলু মাটির নিচে পচে যাবে।"
আরেক কৃষক ফুল মিয়া জানান, খেত থেকে আলু তুলতে এখন বাড়তি শ্রমিক ও সময় লাগবে, যা উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। ভরা মৌসুমে এই অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি কৃষকদের বেশ ক্ষতির মুখে ফেলেছে।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আতিকুল ইসলাম বলেন:
"বৃষ্টির কারণে আলুর কিছুটা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। চাষিদের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ওপর জোর দিচ্ছি আমরা।"
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে আলুর মান নষ্ট হয়ে যায় এবং দ্রুত ছত্রাক বা পচন আক্রমণ করে। আগামী কয়েক দিন আকাশ মেঘলা থাকলে বা পুনরায় বৃষ্টি হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।