
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হোয়াইট হাউস
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের অবসান এবং অঞ্চলটির প্রশাসনিক পুনর্গঠনে ‘বোর্ড অব পিস’ (Board of Peace) গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই উচ্চপর্যায়ের পর্ষদের সদস্যদের নাম ও কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে থাকছেন একঝাঁক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব:
জ্যারেড কুশনার: ট্রাম্পের জামাতা এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা।
মার্কো রুবিও: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
স্যার টনি ব্লেয়ার: যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সাবেক বিশেষ দূত।
স্টিভ উইটকফ: ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত।
অজয় বাঙ্গা: বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট।
রবার্ট গ্যাব্রিয়েল: মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।
মার্ক রোয়ান: মার্কিন ধনকুবের ও প্রাইভেট ইক্যুইটি বিশেষজ্ঞ।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্পের প্রণীত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বোর্ড গঠিত হয়েছে। এটি সাময়িকভাবে গাজার প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত অঞ্চলটির পুনর্গঠন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেবে। বোর্ডের প্রত্যেক সদস্যকে গাজার স্থিতিশীলতা রক্ষায় সুনির্দিষ্ট ‘পোর্টফোলিও’ বা দায়িত্ব দেওয়া হবে।
ট্রাম্প এই পর্ষদকে ‘যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে গঠিত সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বোর্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গাজায় একটি ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (ISF) মোতায়েন করা হবে। এই বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেবেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্স। এই বাহিনীর মূল কাজ হবে গাজায় শান্তি বজায় রাখা এবং স্থানীয় ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে একটি সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত গাজায় ৭১ হাজার ২৬০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, হামাসের হামলায় নিহত হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ২০০ জন। বর্তমানে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি চললেও উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। হোয়াইট হাউস আশা করছে, এই ‘বোর্ড অব পিস’ কার্যকর হলে গাজায় দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের অবসান ঘটবে।