৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গুরুদাসপুরে তেল নিয়ে নৈরাজ্য: বাইকারদের ওপর হামলার চেষ্টা, সক্রিয় কালোবাজারি সিন্ডিকেট

admin
প্রকাশিত ০৬ এপ্রিল, সোমবার, ২০২৬ ১৯:১২:০৫
গুরুদাসপুরে তেল নিয়ে নৈরাজ্য: বাইকারদের ওপর হামলার চেষ্টা, সক্রিয় কালোবাজারি সিন্ডিকেট

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর | ৬ এপ্রিল, ২০২৬

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার একমাত্র রিফুয়েলিং স্টেশন ‘চলনবিল ফিলিং স্টেশন’-এ তেল সরবরাহকে কেন্দ্র করে চরম বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সিরিয়াল না মেনে অবৈধভাবে বোতলে তেল সংগ্রহে বাধা দেওয়ায় সাধারণ মোটরসাইকেল চালকদের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একটি অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে।

ঘটনাস্থলে বিশৃঙ্খলা ও হামলার হুমকি

আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের হাঁসমারী এলাকায় অবস্থিত ফিলিং স্টেশনটিতে সরেজমিনে দেখা যায় বাইকারদের দীর্ঘ লাইন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাধারণ চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও একটি অসাধু চক্র প্রভাব খাটিয়ে বোতল ও প্লাস্টিকের জারে করে অকটেন সংগ্রহ করছে।

উপস্থিত বাইকাররা এই অনিয়মের প্রতিবাদ করলে ওই চক্রটি ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি ও লোহার পাইপ নিয়ে হামলার চেষ্টা চালায়। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

কালোবাজারি ও আন্তঃউপজেলা ভিড়

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে তেলের সংকট প্রকট হয়েছে। এই সুযোগে একটি সিন্ডিকেট পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে বাইরে উচ্চমূল্যে বিক্রি করছে। পাশের তাড়াশ, চাটমোহর, উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা উপজেলা থেকে আসা বাইকারদের ভিড় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মূলত নাটোর জেলা ‘ফুয়েল কার্ড’ ব্যবস্থার আওতায় না থাকায় বাইরের উপজেলার চালকরা এখানে ভিড় জমাচ্ছেন।

কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের বক্তব্য

চলনবিল ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. খবিরউদ্দিন পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্বীকার করে বলেন,

“আগের তুলনায় দ্বিগুণ তেল বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ তেল কোথায় যাচ্ছে তা আমরা বুঝতে পারছি না। উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে কিছুটা শৃঙ্খলা থাকে, কিন্তু তারা চলে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,

“গুরুদাসপুরসহ পুরো জেলায় তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কেউ যদি কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে মজুত বা অবৈধভাবে বিক্রি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি তদন্ত করছে এবং দ্রুতই বিতরণ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র সাময়িক অভিযান নয়, বরং স্থায়ী পুলিশি পাহারা বা কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমেই এই তেল সিন্ডিকেট নির্মূল করা সম্ভব।